ওয়েব ডেস্ক, ১২ জুলাই : সাত বছরের একটা ছেলের মৃতদেহ দু-দেশের কয়েক দশকের বৈরিতা যেন এক মুহূর্তে মুছে দিল। আর সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে গুরেজ উপত্যকার এক প্রত্যন্ত গ্রাম আচুরার গুটিকয়েক বাসিন্দা আর সেনা আধিকারিক ও জওয়ানরা।

দিন তিনেক আগে কিষাণগঙ্গা নদীতে ভেসে এসেছিল সাত বছরের এক বালকের দেহ। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুরেজ উপত্যকার নিয়ন্ত্ররেখার ওপারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট বালতিস্তানের এক পরিবার ফেসবুকে আবেদন জানায়, তাদের ছেলে আবিদ সেখ হারিয়ে গিয়েছে। কেউ তাকে খুঁজে পেলে যেন ফিরিয়ে দেন। আচুরার বাসিন্দাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি কিষাণগঙ্গায় কার দেহ ভেসে এসেছে। তাঁরা দ্রুত খবর দেন সেনাবাহিনীকে। সেনার তরফে সরকারিভাবে যোগাযোগ করা হয় পাকিস্তানে।

এদিকে আবিদের দেহ সংরক্ষণ করা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। প্রত্যন্ত গ্রামে কোনো মর্গ নেই। পাহাড়ের গা থেকে বরফ খুঁড়ে গ্রামবাসীরাই আবিদের দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু দেহতে পচন ধরার আশঙ্কায় বুধবারই আবিদের দেহ পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেইমতো গুরেজের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পৌঁছে গিয়েছিলেন সেনা আধিকারিকরা। রাজি হয়নি পাকিস্তান। দু-দেশের মধ্যে সরকারিভাবে প্রত্যর্পণস্থল কুপওয়াড়ার তিতওয়ালে দেহ নেবে তারা, এমনটাই দাবি ছিল পাকিস্তানের। কিন্ত সে তো প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। বৃহস্পতিবার অবশ্য বরফ গলে। প্রথা ভেঙে গুরেজেই আবিদের দেহ নিতে রাজি হয় পাকিস্তান সেনা। সেইমতো বৃহস্পতিবার ১২টা ৩৯ মিনিটে আবিদের দেহ পাকিস্তানের হাতে তুলে দেয় ভারত।

সাত বছরের আবিদ সেখ পাক-ভারত সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূত্রধর হয়ে গেল, এমনটাই বলছেন সীমান্তের দু-পারের প্রত্যন্ত গ্রামগুলির খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষগুলো। গুরেজের প্রবীণ বিধায়ক নাজির আহমেদ গুরেজি অভিভূত এমন ঘটনায়। তিনি বলেছেন, আমার জীবনে এমন প্রত্যর্পণ দেখিনি। আর দেখব কিনা সন্দেহ। কিষাণগঙ্গা দু-দেশের মধ্যে মৈত্রীর কোনো নতুন দিশা বয়ে আনল কিনা, তা অবশ্য ভবিষ্যৎ বলবে।

ছবি- গুরেজ সীমান্তে আবিদের দেহ পাক সেনার হাতে তুলে দিচ্ছে ভারতীয় সেনা। সংগৃহীত চিত্র