দুই দশক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তর্বিভাগ বন্ধ

471

তুষার দেব, দেওয়ানহাট: কোচবিহার-১ ব্লকের চিলকিরহাট নতুন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তর্বিভাগ পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে। চিলকিরহাট সহ পার্শ্ববর্তী পাটছড়া, পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী, চান্দামারি ও শুকটাবাড়ি এলাকার একাংশ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত রোজ গড়ে প্রায় ১ হাজার মানুষ এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু অন্তর্বিভাগ চালু না থাকায় তাঁদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। রাজ আমলে চিলকিরহাট সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাতাসু বর্মন, চন্দ্রকান্ত বর্মন, হরিবোলা বর্মন, লক্ষ্মীধর বর্মন, মহম্মদ আলি প্রামাণিক প্রমুখ মোট ৮ বিঘা জমি দান করেছিলেন। সেই জমিতে ১৯৪১ সালের নভেম্বর মাসে দাতব্য চিকিৎসালয় চালু হয়। পরবর্তী সময়ে এটি ৬ শয্যাবিশিষ্ট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নীত হয়।

স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একাধিক ভবন, চিকিৎসক ও নার্সদের আবাসন সহ অন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ২০ বছর আগে এখানে অন্তর্বিভাগ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরের বেশ কিছু ভবন পোড়োবাড়িতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যালোপ্যাথি, হ্যোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ বিভাগে একজন করে মোট তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়াও তিনজন ফার্মাসিস্ট, একজন ল্যাবরেটরি টেকনিসিযান ও একজন গ্রুপ ডি কর্মী রয়েছেন। সকলে মিলে আউটডোর পরিষেবা দিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্বিভাগ পরিষেবা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জুরাল হক বলেন, রাতে এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাঁর চিকিৎসার জন্য কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, দেওয়ানহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা অন্যত্র নিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত সময় ও খরচসাপেক্ষ। অনেক সময় মাঝপথেই রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্যতম জমিদাতা মহম্মদ আলি প্রামাণিকের পুত্র ওয়াহেদ আলি প্রামাণিক বলেন, যে উদ্দেশ্যে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় তা আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। অন্তর্বিভাগ পরিষেবা চালু সহ এখানে চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন প্রয়োজন। আরেক বাসিন্দা জ্যোতিষ রায়ও একই দাবি জানিয়েছেন। চিলকিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রকাশ বর্মন বলেন, এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আবার অন্তর্বিভাগ পরিষেবা চালু করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে আমরা বিষয়টি এলাকার বিধায়ককে জানিয়েছি। আবার এলাকাবাসীর স্বার্থে দরবার করব। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাননি তিনি। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রণজিৎ ঘোষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।