চারদশক ধরে বন্ধ হুদুমডাঙ্গা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ

344

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : চিকিত্সকের অভাবে কয়েক দশক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে পরিসেবা। ফলে কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে হলদিবাড়ি ব্লকের দেওয়ানগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের হুদুমডাঙ্গা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকলেও দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে পড়ে থাকায় নষ্ট হতে বসেছে বিভাগের যাবতীয় চিকিত্সা সামগ্রী, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। হলদিবাড়ির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: তাপসকুমার দাস বলেন, বিষয়টি আমি একাধিকবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে এনেছি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। কোচবিহারের ডেপুটি  সিএমওএইচ-১ ডা:  বিশ্বজিত্ রায় বলেন, বিষয়টি শুনেছি। অন্তর্বিভাগটি চালুর জন্য যা করার দরকার আমি করছি।

হলদিবাড়ি ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দেওয়ানগঞ্জ, পারমেখলিগঞ্জ ও হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দাকে স্বাস্থ্য পরিসেবা দেওযার জন্য কংগ্রেসের আমলে দেওয়ানগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের হুদুমডাঙ্গায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ছয় শয্যাযুক্ত অন্তর্বিভাগ চালু ছিল। কিন্তু অজানা কারণে প্রায় চার দশক আগে অন্তর্বিভাগটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিসেবা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকে। পরবর্তীতে রাজ্যে বাম বা তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলেও কেউই বন্ধ অন্তর্বিভাগটি চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী হয়নি। ফলে এখান থেকে সেরকম কোনো চিকিত্সা পরিসেবাই পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে একজন অ্যালোপ্যাথিক চিকিত্সক, একজন হোমিয়োপ্যাথি চিকিত্সক, নার্স, গ্রুপ ডি কর্মচারী ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র বহির্বিভাগ থেকেই নামমাত্র পরিসেবা মিলছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাতচন্দ্র রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকলেও সুষ্ঠু স্বাস্থ্য পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। অন্তর্বিভাগের ভবন, শয্যা সহ যাবতীয় সামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ভবনের প্রাচীরে আগাছা জন্মেছে। জানলা-দরজা ভেঙে যাচ্ছে। জানলার কাচ ভেঙে পড়ছে। অথচ সবাই নির্বিকার। একই বক্তব্য কমলেশ রায়েরও। তাঁর কথা, নেতারা অনেকে অনেক কিছু নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ নিয়ে কারও মুখে একটাও কথা শুনি না। স্থানীয় ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা কমলকুমার রায় বলেন, ২০১১ সালের গোড়ার দিকে একটি নতুন ভবনও তৈরি করা হয়। তত্কালীন খাদ্যমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারী ভবনের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ভবনটি তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আছে। ব্যবহার না করার ফলে সেটি নষ্ট হতে বসেছে। সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় ওই তিন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অন্তর্বিভাগের পরিসেবা থেকে বঞ্চিত। অন্তর্বিভাগের পরিসেবার জন্য প্রায়শই তাঁদের যেতে হচ্ছে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের হালদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল কিংবা ৪৫ কিলোমিটার দূরের জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে। ফলে সময় ও অর্থ দুই-ই অনেক বেশি লাগছে। স্থানীয় বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান বলেন, ডাক্তার না থাকায় ওখানকার বাসিন্দাদের সমস্যা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।