আলিপুরদুয়ারে শিল্পতালুক গড়ার কাজ বিশবাঁও জলে

272

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : উদ্যোগপতিরা শিল্পস্থাপনে আগ্রহ দেখালেও আলিপুরদুয়ারে সরকারিভাবে এখনও শিল্পতালুক গড়ার কাজে গতি আসেনি। জেলার দুটি শিল্পতালুকের জমিতে শুধু সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে জেলা ঘোষণা হওয়ার পাঁচ বছর পরও এখানে একটিও শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি। এ বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ চোখে না পড়ায় জেলার উদ্যোগপতিদের ক্ষোভ বাড়ছে। বিষয়টি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে চান। যদিও শিল্পতালুকের বিষয়ে আলিপুরদুয়ার শিল্পবিকাশ কেন্দ্রের ম্যানেজার বিভাস বসু বলেন, আমরা জেলার দুটি শিল্পতালুককে রাজ্যের স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের হাতে তুলে দিয়েছি। তারা দুটি শিল্পতালুকের জন্য ডিপিআর তৈরি করছে। সেই কাজ হয়ে গেলেই পরবর্তী কাজ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী ২০১৭ সালে জেলা প্রশাসনকে শিল্পতালুক গড়ার নির্দেশ দেন। এরপরই জেলার বিভিন্ন জায়গায় জমির খোঁজ শুরু হয়। ফালাকাটা ব্লকের এথেলবাড়ি ও জয়গাঁয় শিল্পস্থাপনের জন্য যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ একর জমিও চিহ্নিত করে প্রশাসন। কিন্তু তিন বছর পরও সেখানে শিল্পতালুক গড়ার কাজ শুরু হয়নি। গত বছর ডিসেম্বর মাস নাগাদ এথেলবাড়ি ও জয়গাঁর শিল্পতালুক দুটি ঘুরে দেখেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর সহ অন্য কর্তারা। তাঁদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ, জেলা চেম্বার অব কমার্স সহ স্থানীয় উদ্যোগপতিরাও ছিলেন। ওই সময় দুটি শিল্পতালুকে কাজের হাল দেখে রাজ্যের কর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসন তখন জানিয়েছিল, এক মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে দেওয়া হবে। কিন্তু এরপর প্রায় এক বছর হতে চললেও কাজের গতি একচুলও এগোয়নি। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্পপতিদের হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া কিছু করার নেই। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, এথেলবাড়িতে ৫৫ জন এবং জয়গাঁয় ৩২ জন উদ্যোগপতি বিনিয়োগ করতে চাইছেন। কিন্তু সেখানে এখনও শিল্পস্থাপনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। শিল্পতালুক দুটির পাশাপাশি, আমাদের আরও কিছু সমস্যা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চাই।

- Advertisement -

এদিকে, শিল্পতালুকের বিষয়ে রাজ্যকে তোপ দেগেছে বিজেপি। দলের আলিপুরদুয়ার জেলার সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, জেলায় শিল্পস্থাপনে ব্যর্থ শাসকদল। আসলে এই সরকার শিল্পস্থাপনের বদলে ক্লাব, পুজো কমিটি, ইমামদের ভাতা দিতেই ব্যস্ত। কাজ না পেয়ে জেলার হাজার হাজার মানুষ শ্রমিকের কাজে ভিনরাজ্যে যাচ্ছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে আগামী বিধানসভা ভোটে প্রচার চালাব। তবে আমরা ক্ষমতায় এলে জেলায় শিল্পস্থাপন অগ্রাধিকার পাবে। যদিও বিজেপির অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ার জেলাকে ঢেলে সাজিয়েছেন। শিল্পতালুক গড়ার কাজ প্রায় শেষের পথে। আমাদের আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জেলার দুটি শিল্পতালুকেই শিল্পপতিরা কাজ শুরু করতে পারবেন।