ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার, ২৫ মার্চঃ আলিপুরদুয়ার জেলা চার বছরেরও বেশি সময় হল গঠিত হয়েছে। নতুন জেলার জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক কাজকর্মও হয়েছে। জেলায় শিল্প স্থাপনের জন্য নতুন সরকার ইতিমধ্যে জমি চিহ্নিতও করেছে। কিন্তু এখনও সেখানে কোনো শিল্প গড়ে না ওঠায় জেলায় রীতিমতো হতাশা ছড়িয়েছে। শিল্প গড়ে না ওঠায় স্বাভাবিকভাবে কর্মসংস্থানও হয়নি। এখানে শিল্পতালুক তৈরি না হওয়া ও কর্মসংস্থানের অভাবের বিষয়টিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল লোকসভা ভোটের ইশ্যু করেছে। বিজেপি ও বামেদের ছাত্র-যুব সংগঠন এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বোঝানো শুরু করেছে।

তবে জেলায় দুটি শিল্পতালুক তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে বলে জানা গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুই জায়গায় শিল্প স্থাপনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির কাজ শুরু করেছে। শিল্পপতিরা সেখানে শিল্প স্থাপনে আগ্রহও দেখিয়েছেন। ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পরই প্রশাসন শিল্পতালুকের জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে ব্যবসায়ীদের সংগঠন মনে করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন জেলা আলিপুরদুয়ারে শিল্প স্থাপনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত উদ্যোগী হন। এ জন্য জেলা প্রশাসন প্রায় দুবছর আগে জমি খোঁজাও শুরু করে। শিল্প স্থাপনের জন্য ফালাকাটার এথেলবাড়ি ও জয়গাঁয় জমি চিহ্নিত করা হয়। এথেলবাড়িতে ৫০ একর এবং জয়গাঁয় ৩০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। পরে দুটি জায়গাকেই শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত হিসাবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুটি শিল্পতালুকেই কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও ফুড প্রসেসিং ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে ২৭ জন শিল্পপতি এই দুই জায়গায় শিল্প স্থাপনে আগ্রহ দেখান বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, দুবছর আগে এথেলবাড়ি ও জয়গাঁতে শিল্পতালুক গড়ার কাজ শুরু হলেও এখনও তা পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়নি। প্রশাসনের তরফে শিল্পতালুক তৈরি করে না দেওয়ায় বর্তমানে সেখানে শিল্প স্থাপনে কেউই কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। শিল্পতালুকে শিল্প স্থাপিত না হওয়ায় এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলি লোকসভা ভোটে প্রচার শুরু করেছে।

সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য ক্ষিতীশ রায় বলেন, নতুন জেলায় দুটি শিল্পতালুক গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও আজও তা গড়ে ওঠেনি। ফলে শিল্পপতিরা এখানে শিল্প স্থাপনে কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না। এর জেরে কর্মসংস্থানও হচ্ছে না বলে দাবি ক্ষিতীশবাবুর। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের টালবাহানার জেরেই এমনটা হচ্ছে। এই বিষয়গুলিকেই এবারের ভোটের ইশ্যু করা হয়েছে।

বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, রাজ্য সরকার সারা রাজ্যেই শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যর্থ। দুবছর ধরে এথেলবাড়ি ও জয়গাঁয় শিল্প স্থাপনের উপযুক্ত জমি তৈরি করতে না পারার থেকে লজ্জার আর কী আছে? তাই জেলার শিল্প ও কর্মসংস্থানের দাবিকে সামনে রেখে এবারের ভোটের প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জয়ন্তবাবু জানান।