আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং জেলাকে ই জোনে আনার দাবি শিল্পপতিদের

675
প্রতীকী ছবি।

শুভঙ্কর চক্রবর্তী,শিলিগুড়ি: সম্প্রতি নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করে জেলাগুলিকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে জোনভিত্তিক পৃথক ভরতুকির কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। নতুন নীতিতে ই জোনে সবথেকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সেই জোনে একমাত্র কোচবিহার জেলা রয়েছে। এবার আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পংকেও ই জোনে রাখার দাবি তুলল সিআইআই সহ একাধিক শিল্প সংগঠন। বর্তমানে ওই দুই জেলাই সি জোনে আছে। দাবির সমর্থনে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে সিআইআই।

রাজ্যে ই জোনে কারখানা গড়লে উদ্যোগপতিরা সবথেকে বেশি সুবিধা পাবেন। নতুন শিল্পে যন্ত্রাংশ কেনা সহ অন্য খরচে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভরতুকি মিলবে। মহিলা, তপশিলি জাতি-উপজাতি অথবা সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ভরতুকি দেবে রাজ্য। পুরোনো শিল্প বর্ধিত করলেও ২০ শতাংশ উৎসাহ ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভরতুকি মিলবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে সি জোনে ৭৫ শতাংশ ভরতুকি মিললেও ই জোনে ১০০ শতাংশ ভরতুকি দেবে রাজ্য। এসজিএসটির ক্ষেত্রে সি জোনে ৩০ শতাংশ ফেরত পাবেন বিনিয়োগকারীরা। সেখানে ই জোনে ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ মাশুল, স্ট্যাম্প ডিউটির ক্ষেত্রেও সি জোনের চেয়ে ই জোনে অনেক বেশি সুবিধা মিলবে। আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, আলিপুরদুয়ার বহু ক্ষেত্রেই কোচবিহার জেলার চাইতে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। জেলায় সম্ভাবনা থাকলেও ভরতুকি তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীরা কোচবিহারের দিকেই ঝুঁকবেন। আমরা শুরু থেকেই নতুন জেলা হিসাবে আলিপুরদুয়ারকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। সেটা না হওয়াতে আমরা খানিকটা আশাহত। তাই আলিপুরদুয়ারকেও ই জোনে রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, কালিম্পং লাগোয়া সিকিমে শিল্পস্থাপনে হরেক সুবিধা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সেখানে একের পর এক কারখানা খুলছেন। শিল্প সংগঠনগুলি বলছে, সঠিক নীতির অভাবে অনেকটা একই রকম অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও সিকিমকে টেক্কা দিতে পারছে না কালিম্পং। এর উপর নতুন জেলা হওয়ায় পরিকাঠামো উন্নয়ন করাও জরুরি। সেই কারণে বিনিয়োগ টানতে কালিম্পংকেও ই জোনভুক্ত করার দাবি উঠেছে। সিআইআইয়ে উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জিত সাহা বলেন, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং দুই জেলাই কোচবিহারের মতোই বিভিন্ন দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে। তাই ওই দুই জেলাকেও ই জোনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দুই জেলার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের দাবির কথা লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে জানাচ্ছি। অন্যদিকে, জিটিএর চেয়ারম্যান অনীত থাপা বলেন, পাহাড়ে বিনিয়োগ টানতে আমরা নানা পরিকল্পনা নিয়েছি। কালিম্পংয়ে কারখানা গড়তে বিনিয়োগকারীরা যাতে রাজ্যের তরফে আরও বেশি সুবিধা পায়, সেজন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব।