সরকারি গলদ নিয়ে সরব হবেন উত্তরবঙ্গের শিল্পপতিরা

169

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গে শিল্প সম্ভাবনা থাকলেও তা থমকে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে শিল্পপতিদের একাংশের। সরকারি ব্যবস্থাপনার গলদ নিয়ে সরব হওয়ার জন্য জোট বাঁধছেন উত্তরবঙ্গের শিল্পপতিদের একাংশ। এবার তাঁদের এই ক্ষোভ প্রকাশ পেতে পারে নর্থবেঙ্গল কনক্লেভে। আর তা টের পেয়ে সামাল দিতে আসরে নেমেছে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ বা সিআইআই। কার কী সমস্যা, তা লিখিত আকারে আগাম জানানোর জন্য শিল্পপতিদের চিঠি দেওয়া শুরু হয়েছে শিল্প সংগঠনটির তরফে। সিআইআইয়ের উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান সঞ্জিত সাহার বক্তব্য, অনেক বছর ধরেই শিল্পসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে সিআইআই। মূলত রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এই বছর শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এরপরও কারও কোনও সমস্যা থাকলে জানাতে বলা হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্রের ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে শিলিগুড়িতে সিআইআই আয়োজিত  শিল্প সম্মেলনটি আগামী ২১ ও ২২ জানুয়ারি হতে চলেছে।

উত্তরবঙ্গে শিল্প সম্মেলন নতুন নয়। কিন্তু প্রত্যেক বছরই শিল্প সম্মেলনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব জমা পড়ে। যেমন গত শিল্প সম্মেলনে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা পড়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ শিল্পপতিরই। এমন পরিস্থিতির জন্য তাঁরা সরকারি ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, জমির চরিত্র বদল থেকে বিল্ডিং প্ল্যান পাশ অথবা টেন্ডার লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে সরকারি কয়েকটি দপ্তরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না। ফায়ার সেফটি লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা কম নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে হয়রান হতে হওয়ায় তেমন আর আগ্রহ দেখান না শিল্পপতিরা। কিন্তু কার্যত তাঁরা নীরব থাকেন শিল্প সম্মেলনে। তবে এবার কিছু শিল্পপতি জোট বেঁধে ঠিক করেছেন, কেন শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা যাচ্ছে না উত্তরবঙ্গে, সমস্যাটা কোথায়, তা তাঁরা তুলে ধরবেন নর্থবেঙ্গল কনক্লেভে। যেমন নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, উত্তরবঙ্গে শিল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই উপঢৌকন দিতে হয়। যে কারণেই আমরা শিল্প সম্মেলনে সমস্যাগুলি তুলে ধরতে চাই। তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করে শিল্প সম্মেলনটিতে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সিআইআই সদস্য কয়েকজন শিল্পপতিও। এমনই এক শিল্পপতি বলেন, রাজস্থান এবং গুজরাটের মতো জায়গাগুলিতে সিঙ্গল উইন্ডোতে সমস্ত কাজ হয়। কিন্তু উত্তরকন্যায় শিল্প দপ্তরের জয়েন্ট ডিরেক্টরের পদ থাকলেও এখানে কোনও কাজ হয় না।

- Advertisement -

শিল্পপতিদের এই ক্ষোভ টের পেয়ে শিল্পপতিদের সমস্যার তালিকা আগাম সংগ্রহ করছে সিআইআই, যাতে শিল্প সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। সিআইআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্মেলনে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির জেলা শাসক উপস্থিত থাকবেন। ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং দমকল বিভাগের আধিকারিকদেরও থাকতে বলা হয়েছে, যাতে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান শিল্প সম্মেলনেই হয়ে যায়। নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, উত্তরবঙ্গে শিল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই উপঢৌকন দিতে হয়। যে কারণেই আমরা শিল্প সম্মেলনে সমস্যাগুলি তুলে ধরতে চাই।