চকচকায় শিল্পস্থাপন বিশবাঁও জলে

কোচবিহার : করোনার জেরে চকচকায় শিল্পস্থাপন এখন বিশবাঁও জলে। রাজ্যে শিল্পায়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চকচকায় শিল্পতালুক গড়ার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু সেখানে শিল্পস্থাপন কবে হবে, তা এখন আর নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। করোনা সংক্রমণে দেশ ও রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুনভাবে শিল্পস্থাপন ও বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন একাধিক শিল্পোদ্যোগী। তাই চকচকায় পা মাড়াচ্ছেন না কেউই। এদিকে, সেখানে শিল্পস্থাপনের সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছে রাজ্য শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম। এই পরিস্থিতিতে সময় বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগমে চিঠি পাঠাতে চলেছে কোচবিহার ডিস্ট্রিক্ট ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। তবে পরিস্থিতি যা, তাতে চকচকায় ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের উদ্যোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।

শিল্পোদ্যোগী অজিত বণিক বলেন, আমি ওখানে ফার্নিচারের প্রকল্প করতাম। কিন্তু এখনও কাজ শুরু করিনি। পরিস্থিতি ভালো নয়। কী হবে আগামীতে তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। তাই এখনই বিনিয়োগ করতে চাইছি না। আরেক উদ্যোগপতি চন্দনপ্রসাদ শা বলেন, আমি ওখানে একটি ডাল ফ্যাক্টরি করব। কিন্তু বাউন্ডারি ওয়াল করে বসে রয়েছি। করোনার ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোচবিহার ডিস্ট্রিক্ট ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুব্রত পোদ্দার ও সহ সভাপতি সুন্দরলাল চোপড়া বলেন, রাজ্য শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমের কাছে আমরা চিঠি পাঠাচ্ছি। ডিসেম্বর পর্যন্ত যে সময় রয়েছে তা বাড়ানোর আর্জি জানানো হবে। কারণ করোনার ফলে সবকিছু থমকে গিয়েছে। এখন বিনিয়োগ করতে অনেকেই দোটানার মধ্যে রয়েছেন। করোনার ফল আগামীতে কী দাঁড়াবে, তা কিন্তু ভাবার বিষয়।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলার একমাত্র শিল্পতালুক চকচকা শিল্পবিকাশ কেন্দ্র। এখানে জুট পার্ক তৈরির জন্য প্রায় ২৩ একর জমি ছিল। কিন্তু সেই পার্ক হয়নি। অবশেষে ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে হস্তক্ষেপে সাধারণ শিল্পস্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২১ জন শিল্পপতি শিল্পস্থাপনে আাগ্রহী হন। জমির জন্য তাঁরা সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা জমা দেন। জমি হস্তান্তরও হয়ে যায়। নির্মাণকাজের জন্য ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় প্রায় শেষ হতে চললেও এখন সেখানে মাত্র কয়েকটি শিল্প ইউনিটের সীমানাপ্রাচীর ছাড়া কিছুই হয়নি। শুধুমাত্র একটি চিঁড়ের মিল চালু হয়েছে। করোনার জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নতুন করে বিনিযোগে আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বিনিযোগকারীরা। সবমিলিয়ে সমস্ত প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ কী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল। সবই আপাতত বিশবাঁও জলে।