ফালাকাটায় বাড়ছে সংক্রমণ, টোটো চালকদের সতর্ক করল শ্রমিক সংগঠন

360

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটাঃ করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে ফালাকাটায়। সম্প্রতি শহরের এক ওষুধ ব্যবসায়ী সহ পরিবারের পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টোটোচালকদের সতর্ক করতে এগিয়ে আসল তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি।

করোনার আবহেও শহরে অধিক সংখ্যায় যাত্রী নিয়ে কিছু টোটো চলাচল করছে বলে অভিযোগ। চালকদের মুখে নেই মাস্ক। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন না অনেকেই। তাই টোটোচালক ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এজন্যই সোমবার শাসকদলের শ্রমিক সংগঠন চালকদের নানা বিধিনিষেধ মেনে টোটো চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। চাপে পড়ে টোটো চালকরাও সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছেন।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলার ৬টি ব্লকের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ফালাকাটায় সব থেকে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ফালাকাটায় ৭১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এর মধ্যে ৬২ জন ইতিমধ্যে সুস্থ্ হয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি হাসপাতাল রোডের এক ওষুধ ব্যবসায়ীর শরীরের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে নতুন করে শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের আরও চারজনের করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

এছাড়াও ওই ওষুধের দোকানের ৩ কর্মী ও বাড়ির পরিচারিকার রিপোর্টেও ট্রুনাট মেশিনে পজিটিভ আসায় তাদের সকলকে তপসিখাতা কোভিড হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এদিকে লকডাউন শিথিল হতেই ফালাকাটা শহরজুড়ে প্রায় সব কিছুই স্বাভাবিক হয়েছে। সেজন্য শহরের রাস্তায় যানজটও হচ্ছে। এই শহরে প্রায় ৩ হাজার টোটো চলাচল করে। অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন কাজে টোটোতে চলাফেরা করেন। প্রথমদিকে বেশ কিছু শর্ত মেনে টোটো চলাচল করলেও এখন অধিকাংশ চালক সেগুলি মানছেন না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতি দেখেই এদিন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন থেকে টোটো চালকদের সতর্ক করা হয়।

আইএনটিটিইউসির ব্লক নেতা অশোক সাহা টোটোচালকদের সতর্কতা মেনে চলার জন্য একটি অডিও রেকর্ড করে প্রত্যেক চালকের মোবাইলে পাঠান। এছাড়াও সংগঠনের কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবেও সব চালককে সচেতন করা হয়েছে। মাইকেও প্রচার চালানো হয়। অশোক সাহা বলেন, ফালাকাটায় করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এজন্য টোটোচালকদের বলা হয়েছে এখন থেকে টোটোতে দু’জনের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। প্রত্যেক চালককে মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে। সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

যাত্রীদের মুখেও যাতে মাস্ক থাকে সেদিকও চালকদের খেয়াল রাখতে হবে। চালকরা যাত্রীদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেবেন। সবার সুরক্ষার জন্যই এইসব বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। তা সত্ত্বেও কোনও টোটোচালক যদি এসব শর্ত উপেক্ষা করেন, তাহলে প্রশাসন তাঁর বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিলে সংগঠন এর দায় নেবে না।’ এই ঘোষনার পর এদিন অবশ্য বেশ কিছু টোটোতে দুজন করে যাত্রী পরিবহণ করতে দেখা গিয়েছে। টোটোচালক দিলীপ রায়, গনেশ ভুঁইমালি, জয়নাল মিয়াঁ জানান, পেটের টানে টোটো চালালেও তাদেরও জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই রোজগার একটু কম হলেও সব সুরক্ষাবিধি মেনে এদিন থেকে ফের দু’জন করে যাত্রী নিয়ে তাঁরা টোটো চালিয়েছেন।