রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে

শেখ পান্না, রতুয়া : জেলায় দিনের পর দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা। ভাইরাস থাবা বসিয়েছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে। বাদ পড়েনি হাসপাতালগুলিও। সংক্রামিত হয়েছেন রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, এমনকি অ্যাম্বুল্যান্স চালকও। হাসপাতালে শুধুমাত্র খোলা রয়েছে প্রসূতি ও জরুরি বিভাগ। বাকি সব পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। অন্য রোগীদের চিকিৎসা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে হাসপাতাল থেকে। অভিযোগ, হাসপাতালে বেড খালি থাকা সত্ত্বেও ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না রোগীদের।

রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক অর্ণব রায় বলেন, আমাদের হাসপাতালে ১২ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী রয়েছেন। তার মধ্যে ছয়জন করোনা পজিটিভ। নার্সিং স্টাফ ১২ জন। তার মধ্যে চারজন করোনা সংক্রামিত। তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন করোনা পজিটিভ। দুই সাফাইকর্মীর মধ্যে একজনের লালায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে। পাঁচজন অ্যাম্বুল্যান্স চালকও করোনা পজিটিভ। এই অবস্থায় বাকি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে কোনওরকমে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি। কেবলমাত্র প্রসূতি এবং জরুরি বিভাগ খোলা রয়েছে। যতদিন চিকিৎসক এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা সুস্থ রয়েছি, ততদিন ন্যূনতম পরিষেবা দিয়ে যাব। তবে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। এই জনবহুল এলাকায় এই কজন কর্মী নিয়ে এত বড় হাসপাতালে সম্পূর্ণ পরিষেবা দেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এবিষয়ে জেলা শাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

সিপিএমের রতুয়া-১ লোকাল কমিটির সম্পাদক জহুর আলম বলেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থ। রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত। কেরালা সরকার যে পদ্ধতিতে করোনা ভাইরাসকে ঠেকাতে পেরেছে, সেখান থেকে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষা নেওয়া উচিত। করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ। রাজ্য সরকারের ভূমিকাকে তীব্র নিন্দা জানাই। এই সরকারের যা ভূমিকা, তাতে সাধারণ মানুষকে আরও সজাগ হওয়া উচিত। রাজ্য সরকারের তরফে যা ঘোষণা করা হয়, তার পুরোটা মিথ্যা। মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে সরকার চলছে। রাজ্যের মানুষ এই সরকারকে ক্ষমা করবে না।

এবিষয়ে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ পায়েল খাতুন জানান, মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। বাম জমানার তুলনায় বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো অনেক উন্নত। অন্য কোনও রাজ্য থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন এবং চিকিৎসকরা করোনা যুদ্ধের সৈনিক। বর্তমানে রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে যে কজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন, তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই হাসপাতালে যেন আরও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয় সেব্যাপারে জেলা শাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানাব।