চিকিৎসক থাকেন তিন ঘণ্টা, সেলাই ও ড্রেসিং করেন সাফাইকর্মী

221

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : ফালাকাটা ব্লকের ছোট শালকুমার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বেহাল দশা। দিনে মাত্র তিন ঘণ্টা পরিসেবা পান এলাকার বাসিন্দারা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, সেলাই করা থেকে ড্রেসিং করা, সবই করেন এক মহিলা সাফাইকর্মী। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সকাল ১১টা নাগাদ ফালাকাটা থেকে একজন চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্ট এখানে আসেন। আবার দুপুর একটার সময় তাঁরা সবাই চলে যান। বাকি সময় কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে ১১ কিলোমিটার দূরে ফালাকাটা অথবা ১৩ কিলোমিটার দূরে মাদারিহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ছটি মৌজার কয়েক হাজার মানুষের ভরসা এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।

এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিত ঘোষ জানান, ১৯৯৫ সালে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রায় আট মাস বন্ধ থাকে। আন্দোলনের পর ১৯৯৬ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ফের চালু হয়। কিন্তু সেই সময় থেকে এখানকার কোয়ার্টারে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিত্সক থাকেন না। বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে পাঁচটি কোয়ার্টার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তহিদুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, যদি কোনো রোগীর শরীরে সেলাই এবং ড্রেসিং করার প্রয়োজন হয় তবে এখানকার মহিলা সুইপার সেই কাজ করেন। অন্য বাসিন্দা বুল্টি ঘোষ বলেন, এখানে কোনো ল্যাবরেটরি নেই, কর্মীও নেই। ফলে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হলে হয় ফালাকাটা অথবা মাদারিহাট যেতে হয়। এখানে শুধুমাত্র সর্দিকাশি, পেটের গণ্ডগোল অথবা জ্বরের ওষুধ দেওয়া হয়। এর বাইরে কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গেই রেফার করে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাফাইকর্মী পার্বতী বাসফোর স্বীকার করেন য়ে, কেটে গেলে সেলাই বা ড্রেসিং তিনিই করেন। পার্বতী বলেন, কেউ না থাকায় আমাকেই করতে হয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো টাকা পাই না। প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন রোগী এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। আর গরমের সময় সংখ্যা প্রায় ৪০০-তে গিয়ে দাঁড়ায়। শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিমল গাবুর বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিসেবা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে আমি ফালাকাটা ব্লক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বহুবার বলেছি। কিন্তু আমার কথার কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে ফালাকাটা ব্লক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ পার্থসারথি কয়াল বলেন, মেডিকেল অফিসারের ঘাটতি থাকায় একজন এএমও দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। সরকারি নিয়মে রয়েছে, এএমওদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোয়ার্টারে থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিসেবা দেওযা বাধ্যতামূলক নয়। টাকার বরাদ্দ না থাকায় সাফাইকর্মীদের হাজিরার টাকা দেওযা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান পার্থসারথিবাবু।