বিদেশ বসু, মালবাজার, ১১ জুলাই : মাল শহরের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাল আদর্শ বিদ্যাভবন। ঐতিহ্যবাহী ওই স্কুলের দ্বিতল অফিসটি ইংরেজ আমলে তৈরি করা হয়। অনেকদিন ধরে মালবাজারবাসী ওই ভবনটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে ভবনটির সংস্কার করে রক্ষণাবেক্ষণ করার দাবিও জোরালো হয়েছে। এবার জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সমীক্ষা করার জন্য মাল মহকুমা প্রশাসনকে নির্দেশ দিল। স্বাভাবিকভাবে এতে আশায় বুক বাঁধছে বিভিন্ন মহল।

মাল আদর্শ বিদ্যাভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী অফিস ভবনটির বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। লোহার পিলারগুলি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। সিমেন্ট দিয়ে সেগুলি মেরামতি করা হয়েছে। একসময় টিনের চালে আগুন ধরে যায়। এতে টিনের চালগুলি বেঁকে গিয়েছিল। বৃষ্টি হলে টিনের চালের কিছু অংশ দিয়ে ঘরে জল ঢোকে। তবু ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সেখানে পুরোনো টিনের চালই রয়েছে। নাগরিকরা চাইছেন, ভবনটি হেরিটেজ তকমা পাক। পাশাপাশি, ভবনটির সংস্কার করা হোক।

ওই স্কুলটি মাল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুলের দ্বিতল অফিসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। দ্বিতল কাঠের ভবনের উপরে টিনের ছাউনি রয়েছে। মাল শহরের প্রবীণ বাসিন্দা বিদ্যুৎ সরকার বলেন, এক সময় ওই ভবনটি জলপাইগুড়ির নবাবের সম্পত্তি ছিল। পরে ইংরেজরা সৈনিক রাখার জন্য অফিসটিকে কুঠি হিসাবে ব্যবহার করত। দোতলায় সার্জেন্ট এবং আধিকারিকরা থাকতেন। নীচের তলায় অস্ত্র মজুত করে রাখা হত। সেখানে সাধারণ সৈনিকরাও থাকতেন।

বর্তমানে যেখানে শিক্ষকদের আবাসন রয়েছে, সেখানে একসময় ঘোড়ার আস্তাবল ছিল। বিদ্যুৎবাবুর দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময ডুয়ার্সে শক্তি বাড়ানোর জন্য ইংরেজরা ওই কুঠিতে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। ইংরেজরা চলে যাওয়ার পর কুঠিটি আবার নবাবদের অধীনে চলে যায়। স্থানীয় শিক্ষাপ্রেমীরা নবাবের কাছে আবেদন জানালে সেখানে স্কুল তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৪৮ সালে সেখানেই মাল আদর্শ বিদ্যাভবন গড়ে ওঠে।

স্কুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক উৎপাল পাল বলেন, স্কুলের অফিসঘরটির সঙ্গে ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। চা শিল্পের বিকাশের সঙ্গেও ওই ভবনের যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আমাদের স্কুলে নতুন ভবন তৈরির কাজ চলছে। ভবনটি তৈরি হয়ে গেলে সেখানেই অফিসের যাবতীয় কাজ হবে। আমরা চাই ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটিকে সংরক্ষণ করা হোক। আমূল সংস্কার করে ঘরটির ঐতিহ্য ধরে রাখা হোক। আমরা বিভিন্ন মহলে এই আবেদন জানিয়েছি। এর সঙ্গে মালবাজার তথা ডুয়ার্সের শিক্ষানুরাগী মহলের ভাবাবেগ জড়িয়ে রয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মাল পুরসভাও সহমত। পুরপ্রধান স্বপন সাহা বলেন, আমরা পুরসভার তরফে মাল আদর্শ বিদ্যাভবনের ঐতিহ্যবাহী অফিস ভবনটির সংস্কারের আবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছিলাম। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতায় আমরা খুশি। পর্যটন বিভাগের ভবনটি তত্ত্বাবধানে সংস্কারের আর্জি জানাচ্ছি। মালের মহকুমাশাসক সিয়াদ এন বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশ পেয়েছি। মাল আদর্শ বিদ্যাভবনের অফিস ভবনটির সমীক্ষা করা হবে। আমরা এই সংক্রান্ত তথ্য ও রিপোর্ট দ্রুত জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেব।