জিটিএর পারফরমেন্স রিপোর্ট প্রকাশের উদ্যোগ

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : রাজ্য বা কেন্দ্র- পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সায় দেয়নি কোনও সরকারই। ভোটব্যাংক ধরে রাখতে আকারে ইঙ্গিতে নানা সময় গোর্খাল্যান্ডের সমর্থনে কথা বললেও দুই শাসকদলই পাহাড়ের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে নানা ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে। দার্জিলিংকে আলাদা রাজ্য করার দাবি বাস্তবায়িত করা যে খুবই কঠিন সেটা ভালোই বুঝেছেন পাহাড়ের মানুষদের একটা বড় অংশ। তাই তাঁরাও উন্নয়নকেই গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন।

বিধানসভা ভোটের প্রচারে উন্নয়নকেই প্রধান হাতিয়ার করেছে রাজ্যের শাসকদল। সরাসরি গোর্খাল্যান্ডকে সমর্থন করতে না পারা বিজেপিও উন্নয়নের প্রশ্নেই পা বাড়াচ্ছে পাহাড়ে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের উন্নয়নে তাঁরাই যে সেরা কাজ করেছেন সেটা প্রমাণে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে বিনয় তামাং ও অনীত থাপা গোষ্ঠী। সে কারণেই তাঁদের আমলে পাহাড়ের উন্নয়নে কী কী কাজ হয়েছে বা হচ্ছে তা জানাতে জিটিএর পারফরমেন্স রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিনয় তামাংরা। জিটিএ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। বিনয় তামাং বলেন, আমরা প্রচুর কাজ করেছি। পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলিতেও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। সেসব কাজের কথা পাহাড়ের প্রত্যেকটি মানুষের জানা প্রয়োজন। তাই একটি রিপোর্ট আমরা তৈরি করছি। সেই রিপোর্ট বইয়ের আকারে পাহাড়ের প্রতিটি এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। কে বা কারা তাদের জন্য ভাবে সেটা পাহাড়ের মানুষরাই বিচার করুক।

- Advertisement -

যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে পাহাড়ছাড়া হয়েছিলেন বিমল গুরুং তাদের হাত ধরেই পাহাড়ে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তবে পরিস্থিতি বলছে, বিমলের পাহাড়ে ফেরার পথে মূল বাধা এখন বিনয় তামাং ও অনীত থাপা। বিমলের ফেরার হওয়ার পরেই দ্বিখণ্ডিত মোর্চার বিনয় শিবির গাঁটছড়া বেঁধেছে তৃণমূলের সঙ্গে। আবার বিমল গুরুংও তৃণমূলের কাছে নতিস্বীকার করেছেন। পরস্পর বিরোধী দুই শিবিরকে কীভাবে ম্যানেজ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সেইদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। যেহেতু তৃণমূলের সঙ্গে তাদের জোট রয়েছে তাই এখনও সরাসরি মাঠে নেমে বিমলের বিরোধিতা শুরু করেননি বিনয় বা অনীত কেউই। তাঁদের অনুগামীরা বিমলের বিরোধিতায় মিছিল করছেন। পাহাড় পরিচালনায় তাঁরা যে বিমলের থেকে যোগ্য, পারফরমেন্স রিপোর্ট প্রকাশ করে ঘুরিয়ে সেটাই বলতে চাইছেন বিনয় তামাংরা। জোট রাজনীতির চাপে বিমলের প্রত্যাবর্তন মেনে নিতে বাধ্য হলেও যাতে বিমল জিটিএর ক্ষমতা দখল করতে না পারেন সেটাও পারফরমেন্স রিপোর্টের মাধ্যমে বলার চেষ্টা করবে বিনয় শিবির।

জিটিএর স্পেশাল অডিট করানোর প্রশ্নেই বিমল-মমতার প্রথম সংঘাত শুরু হয়েছিল। বিনয় শিবির কাজের খতিয়ান দিয়ে একদিকে যেমন নিজেদের স্বচ্ছতা তুলে ধরার চেষ্টা করবে, তেমনি তারা যে কোনও প্রকার অডিটে ভয় পায় না সেই বার্তাও দেবে। ফলে বিনয় তামাংদের পারফরমেন্স রিপোর্ট প্রকাশ বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দার্জিলিংয়ে জিটিএর প্রশাসনিক সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জিটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সভায় জিটিএর কাজকর্ম নিয়ে ১৭০ পাতার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছিলেন জিটিএর কর্তারা। সেই রিপোর্ট ঘষেমেজে পারফরমেন্স রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।

কী থাকবে ওই রিপোর্টে? জিটিএর এক আধিকারিক বলেন, পাহাড়বাসীদের চাহিদা পূরণে যেসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রকল্পগুলিতে কী ধরনের কাজ হয়েছে বা আগে শুরু হওয়া কাজের কতটা অগ্রগতি হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে। জিটিএ সূত্রের খবর, পাহাড়ের দুই জেলার কৃষি, শিক্ষা, প্রাণীসম্পদ বিকাশ, স্বাস্থ্য, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ে উন্নয়ন, সিঙ্কোনা প্ল্যান্টেশনের পরিস্থিতি, নির্মল বাংলা প্রকল্পের অগ্রগতি থেকে পর্যটনের প্রসারে যেসব কাজ হয়েছে সেসব রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে। জিটিএর চেয়ারম্যান অনীত থাপা বলেন, আমরা পাহাড়ের জন্য পরিকল্পনামাফিক যত কাজ করেছি, ততটা কাজ কখনোই হয়নি।