বাংলার জমি ফেরাতে কোমর কষল রাজ্য

- Advertisement -

শেখ পান্না, রতুয়া : রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা ভেঙে চলেছে গঙ্গা। এই সময়ে মধ্যে নদী গ্রামগুলির ভিতরে ঢুকে এসেছে অনেকটাই। তবে এরই মধ্যেই নদীর ওপারে জেগে উঠেছে চরও। এপারের জমি ওপারে চর হিসাবে জেগে ওঠায় আনন্দিত হয়েছিলেন রতুয়ার জমি মালিক ও কৃষকরা। কিন্তু তাঁদের আনন্দ বেশিদিন স্থাযী হয়নি। জমি ফিরে পেলেও চাষ ফিরে পাননি তাঁরা। এসব নিয়ে সম্প্রতি তাঁরা বিডিও ও জেলা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। জেলা শাসকের নির্দেশে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন রতুয়া-১ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক। দ্রুত প্রশাসনের তরফে চরে যাতায়াতের জন্য ফেরিঘাট চালুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

দুদশকেরও বেশি সময় ধরে রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামে চলছে গঙ্গার ভাঙন। নদীর গ্রাসে চলে গিয়েছে কয়েক হাজার একর উর্বর কৃষিজমি। তবে এই সময়ে মধ্যে নদীর অন্য পাড়ে চর আকারে গজিয়ে উঠেছে তলিয়ে যাওয়া সেই সমস্ত জমি। ওই চরের নাম গদাই মহারাজপুর। গজিয়ে ওঠা চরে নিজেদের হারানো জমি ফিরে পেয়ে খুশির সীমানা ছিল না মহানন্দাটোলা, জঞ্জালিটোলা, শ্রীকান্তটোলা, জিতুটোলা, মুনিরামটোলা প্রভৃতি গ্রামের কয়েকশো মানুষের। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। প্রথমত, গ্রাম থেকে ৫-৬ কিলোমিটারেরও বেশি গঙ্গা পেরিয়ে তাঁদের সেই চরে যেতে হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চরে যাতায়াতের জন্য সরকারি ফেরির কোনও ব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়ত, সেই চরে কার্যত সন্ত্রাস চালাচ্ছে ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীরা। কৃষকদের ফসল কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে। কোনও নিরাপত্তা না থাকায় রতুয়ার কৃষকরা তাঁদের মোকাবিলা করতে পারছেন না।

রতুয়ার স্থলভূমি থেকে ওই চরের দূরত্ব ৫-৬ কিলোমিটারেরও বেশি। কিন্তু সেখান থেকে ঝাড়খণ্ডের দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। ফলে ওই চর রতুয়া-১ ব্লকের অন্তর্ভুক্ত হলেও তার দখল কার্যত নিয়ে নেয় ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীরা। ফলে এই জেলার কৃষকরা নিজেদের জমিতে ঠিকমতো চাষও করতে পারেন না। মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মনোজ মাহাতো, গোলাপ মণ্ডল, দীনেশ মণ্ডল, রামপ্রসাদ যাদবরা অভিযোগ করেন, গঙ্গা জমি কেটে নেওয়ার দীর্ঘদিন পর আমরা চরে নিজেদের জমি ফেরত পেয়েছিলাম। কিন্তু সেই চর জেগে উঠেছে নদীর ওপারে। ওই চরে অন্তত তিন হাজার বিঘা উর্বর জমি রয়েছে। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে আমরা কেউ চরে চাষ করার সাহস দেখাতে পারছি না।

তাঁদের দাবি, দুষ্কৃতীরা আমাদের চাষ করতে দিচ্ছে না। ফসল কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলেও এবার তাদের দাপট অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এদিকে এপার থেকে চরে পৌঁছোতে প্রচুর সময় লাগে। গঙ্গায় ফেরি নৌকার ব্যবস্থা নেই। এসব নিয়ে আমরা বিডিওকে জানিয়েছিলাম। জানানো হয়েছিল জেলা শাসককেও। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছে। বিডিও এলাকা পরিদর্শন করে গিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি সরকারি ফোরিঘাটের ব্যবস্থা করা হবে। চরে আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে। এখন সেই আশাতেই রয়েছি আমরা।

একই সমস্যায় ভুগছেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, আমাদেরও প্রায় দুহাজার বিঘা জমি গাংকাট্টি গিলে নিয়েছিল। পরে সেই জমি গদাই মহারাজপুর চরে জেগে উঠেছে। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীদের জন্য ওই জমিতে আর চাষাবাদ করতে পারছি না। গঙ্গার অন্যদিকে থাকায় ওই চর নিয়ে প্রশাসনও কিছু করতে পারছে না। চরে যাতায়াতের জন্য সরকারিভাবে কোনও সুবন্দোবস্ত করা হলে আরও অনেকের মতো আমিও উপকৃত হব। অন্তত পৈতৃক জমিতে চাষ করতে পারব। এলাকা পরিদর্শনে এসে বিডিও সারওয়ার আলি বলেন, জেলা শাসকের নির্দেশে আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি। চরে এই রাজ্যের কিছু কৃষিজমি রয়েছে। সেখানে কিছু মানুষ ঝামেলা পাকাচ্ছে। ওই চরে যেতে গঙ্গার ফেরি নৌকা চালু করার জন্য জেলা শাসক নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা বিষয়টি মহকুমা শাসককে জানানো হয়েছে। এনিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়া গেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -