ফালাকাটার প্রতি পঞ্চায়েতে দুটি করে কোয়ারান্টিন সেন্টার চালুর উদ্যোগ

447
কোয়ারান্টিন সেন্টার খোলার প্রস্তুতি

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: সরকারি গাইডলাইন মেনে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি চিকিৎসা সহ অন্যান্য কারণে যাঁরা ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছেন, তাঁরা এখন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।

ফালাকাটা ব্লক প্রশাসন ভিন রাজ্য বা রাজ্যের অন্যান্য জেলা ফেরা মানুষদের সুরক্ষিত রাখতে যাবতীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সূত্রের খবর, ফালাকাটা ব্লকের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ এলাকায় ফিরলে যাতে কোনও সমস্যা না হয়ে সেজন্য ফালাকাটার সর্বস্তরের বাসিন্দাদের সহযোগিতা চাইছে ব্লক প্রশাসন।

- Advertisement -

বিশেষ করে কোয়ারান্টিন সেন্টার খুলতে যাতে কোনও বাধা না আসে সেজন্য প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সর্বদলীয় বৈঠকও হচ্ছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তত দুটি করে কোয়ারান্টিন সেন্টার খুলতে চাইছে ব্লক প্রশাসন। এদিকে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ট্রুনাট মেশিন চালু হওয়ায় পরিযায়ী শ্রমিকদের সোয়াব পরীক্ষা দ্রুত হবে মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা।

১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত ফালাকাটা ব্লকে ছোটো বড় কয়েকটি চা বাগানও রয়েছে। এই ব্লকের প্রচুর মানুষ ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। কেরল, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি, রাজস্থান সহ বহু রাজ্যে ফালাকাটার শ্রমিকরা লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছেন। গত মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হলে প্রথম দফায় বাইরে আটকে থাকা শ্রমিকদের সেরকম সমস্যা হয়নি।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার লকডাউনে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক খাদ্যের সংকটে পড়েন। শ্রমিকরা যাতে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য তাঁদের পরিজনরা ফালাকাটা ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানায়। তবে সম্প্রতি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমিকরা ফিরতেও শুরু করেছেন।

প্রশাসন সূত্রে খবর, লকডাউন শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ফালাকাটায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক ফিরেছেন। কিন্তু এখনও ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক দেশের নানা প্রান্তে আটকে রয়েছেন। এদিকে ফালাকাটার জটেশ্বরে এখনও পর্যন্ত একটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিন চালু রয়েছে। ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকরা ফালাকাটায় পৌঁছালে সেখানে সবাইকে রাখা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

এজন্য প্রশাসনিক স্তরে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুটি করে কোয়ারান্টিন সেন্টার খোলার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রশাসন চাইছে, ভিনরাজ্য ফেরতরা যাতে নিজ নিজ এলাকার কোয়ারান্টিন সেন্টারেই থাকতে পারেন। এজন্য এলাকাবাসীর সম্মতি আদায়ের জন্য সর্বদলীয় বৈঠক করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুটনিরঘাট ফ্লাড শেল্টারে একটি এবং জটেশ্বরে আরও একটি কোয়ারান্টিন সেন্টার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ব্লকে বাকি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতেও কোয়ারান্টিন সেন্টার খোলার প্রস্তুতি চলছে।

গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শুধাংশু বর্মন বলেন, ‘এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় দু’হাজার মানুষ ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছেন। তাঁরা ফিরলে যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য ফ্লাড শেল্টারে কোয়ারান্টিন সেন্টার খোলা হচ্ছে।’ ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘ভিন রাজ্য থেকে ইতিমধ্যে ব্লকের প্রায় ২৮০০ জন ফিরেছেন। এখনও প্রায় দশ হাজার মানুষ ভিন রাজ্যে রয়েছেন। এজন্য প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তন্ত দুটি করে কোয়ারান্টিন সেন্টার খোলার কথা ভাবা হচ্ছে।’

বিডিও আরও বলেন, ‘সংক্রমণের হার বেশি থাকায় নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী দিল্লি, রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ফেরতদের ৬ দিনের মাথায় সোয়াব পরীক্ষা করা হবে এবং রিপোর্ট নেগেটিভ হলে আটদিনের মাথায় ছেড়ে দেওয়া হবে। আবার রাজ্যের অন্যান্য জেলা ও অন্য রাজ্য ফেরতদের তিনদিনের মাথায় সোয়াব পরীক্ষা হবে এবং পাঁচ দিনের মাথায় রিপোর্ট নেগেটিভ থাকলে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

চা বাগান এলাকার কেউ ফিরলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ সেখানেই কোয়ারান্টিন সেন্টার খুলে তাঁদেরকে রাখবে বলে বিডিও জানান।