নবজাতকের জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে উদ্যোগ স্বাস্থ্য দপ্তরের

114

জলপাইগুড়ি: নবজাতকদের জন্মগত শরীরিক ত্রুটি নির্ণয় এবং তার চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়ি জেলায় নতুন ক্লিনিক ডিসট্রিক্ট আর্লি ইনটারভেনশন সেন্টার খোলার উদ্যোগ নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলা হাসপাতালের কোন জায়গায় এই ক্লিনিক খোলা হবে সেই জায়গা চিহ্নিত করতে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবন থেকে দুই সদস্যের এক প্রতিনিধি দল জলপাইগুড়িতে যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, রাজ্য পরিবার কল্যাণ দপ্তরের যুগ্ম সচিব চিকিৎসক অসীমকুমার দাস মালাকার এবং পরিবার কল্যাণ দপ্তরের শিশুবিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত আধিকারিক চিকিৎসক পম্পা চক্রবর্তী। এদিন স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে এবিষয়ে বৈঠকের পর জেলা হাসপাতালের ডায়ালিসিস ইউনিটের পাশে ক্লিনিকটি চালুর জন্য প্রস্তাবিত জায়গাটিও ঘুড়ে দেখেন।

অসীমকুমার দাস মালাকার বলেন, ‘বর্তমানে রাজ্যে ৭টি এধরণের ক্লিনিক রয়েছে। যার মধ্যে বালুরঘাট এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রয়েছে। জলপাইগুড়িতে এমনই একটি ক্লিনিক তৈরি হবে। যেহেতু জলপাইগুড়িতে মেডিকেল কলেজে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই ধরণের ক্লিনিক তৈরি হলে শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুবই সুবিধে হবে।’

- Advertisement -

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে ১ থেকে ২ জন এমন শিশু জন্ম নেয় যাদের শারীরিক কিছু ত্রুটি থাকে। যার মধ্যে হার্টে ফুটো, ঠোঁট কাটা, হাড়ের সমস্যার কারণে হাত, পা বাঁকা, মলদ্বার বন্ধ থাকার মতো বেশ কিছু সমস্যা। জলপাইগুড়ি জেলার একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ হাজারটির শিশু হার্টের ফুটো এই সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। ২০২০ সালে জেলায় ৩৩টি এবং ২০২১ সালের অগাস্ট মাস পর্যন্ত ৫১টি এধরণের সমস্যা স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে এসেছে।

এক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, এতদিন জেলায় এধরণের সমস্যায় যারা চিহ্নিত হত তাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে সরকারি খরচে চিকিৎসা করানো হত। শিলিগুড়িতে দুটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে এধরণের চিকিৎসার জন্য চুক্তি ছিল রাজ্য সরকারের। সম্প্রতি সেই চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে শিশুদের হার্টে ফুটো বা জটিল কোনও অস্ত্রপচারের দরকার হলে সেক্ষেত্রে শিলিগুড়ি বেসরকারি হাসপাতাল বা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা পরিকাঠামো নেই। সেক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের রোগীদের কোলকাতার বড় মেডিকেল কলেজে যেতে হয়। অস্ত্রপচারের পরও শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার দরকার হয়। সেক্ষেত্রে জলপাইগুড়িতে সেন্টারটি তৈরি হলে সেখানেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে এই পরিষেবা পাবেন জেলার মানুষ।

চিকিৎসকরা জানান, গর্ভবতী থাকাকালীন মায়েদের অসাবধানতা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনও ওষুধ খাওয়া এবং নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা না করানোর কারণে মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুদের এই সমস্যা হয়ে যেতে পারে। জন্মের পরই যাতে এধরণের ত্রুটি নির্ণয় করা সম্ভব হয় তার জন্য জেলাস্তরে এই ক্লিনিক খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।