রেললাইনের ধার থেকে গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার

1963

বর্ধমান: রেললাইনের ধার থেকে গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বেলডাঙ্গা গ্রামে। মৃতের নাম পাপিয়া ঘোষ (৩০)। বেলডাঙ্গা গ্রামেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি।

বৃহস্পতিবার সকালে ভাতার রেল স্টেশন সংলগ্ন কলপুকুর পাড় এলাকায় রেললাইনের ধার থেকে বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে জিআরপি। প্রথমে এলাকার সবাই মনে করেছিলেন, চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে বধূ আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু আত্মহত্যার তত্ত্ব খারিজ করে দিয়ে বধূর বাবা সুকুমার ঘোষ অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর জন্য জামাই সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনই দায়ী। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে জিআরপি অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দারা জানান, পাপিয়া ঘোষ বুধবার রাতে ভাতার রেলস্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। স্টেশনে থাকা লোকজনকে তিনি বলেছিলেন, গঙ্গাস্নান করতে যাবেন। তারপর এদিন সকালে রেললাইনের ধার থেকে পাপিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা স্তম্ভিত হয়ে যান। চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে পাপিয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে অনেকে অনুমান করেন। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বীরভূমের নানুর থানার গোমাই গ্রাম থেকে দুপুরে ভাতারে পৌঁছান বধূর বাবা সুকুমার ঘোষ সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই জামাই হেমন্ত ঘোষ সহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা পাপিয়ার ওপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। তারা পাপিয়াকে প্রাণে মেরে দেবে বলে হুমকিও দিত। জামাই ও শ্বশুরবাড়ির অপর দুই সদস্য মিলে পাপিয়াকে খুন করে পরে রেললাইনের ধারে দেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে বলে সুকুমার ঘোষ অভিযোগ করেছেন। জিআরপির দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও বধূর বাবা জানিয়েছেন। বধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জিআরপি।