সরিষা খেতে বোমা বিস্ফোরণে জখম ১

266

সামসী: সরিষা খেতে বোমা বিস্ফোরণ ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ ঘটেছে চাঁচল থানা এলাকার জালালপুরে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন যুবতী মারাত্মক জখম হয়েছে। ঘটনার পর এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কিত। বোমা বিস্ফোরণকে ঘিরে যাতে কোনো উত্তেজনা না ছড়ায় তার জন্য এলাকায় বিশাল পুলিশি টহল রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বোমার ঘায়ে জখম যুবতীর নাম বেরাফুল খাতুন(২২)। তাঁর বাড়ি জালালপুর দক্ষিণ পাড়ায়। এদিন ঠিক সকাল দশটা নাগাদ বেরাফুল বাড়ির পাশে মাঠে সরিষা খেতে শাক তুলতে যায়। সরিষার জমিতে আগে থেকে বোমা মজুত ছিল। শাক তোলার সময় বেরাফুলের পায়ে লেগে বোমা সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন সে। কিন্তু মারাত্মক জখম হয়েছে বেরাফুল। গ্রামবাসীরা বেরাফুলকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

- Advertisement -

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চাঁচলের এসডিপিও ও চাঁচল থানার আইসি সুকুমার ঘোষের নেতৃত্বে র‍্যাফ সহ বিশাল পুলিশবাহিনী ছুটে যান। পুলিশ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে সব মিলিয়ে ৮-১০টিও বেশি বোমার ড্রাম উদ্ধার করেছেন। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশের রুটমার্চ চলছে পাড়ায় পাড়ায়। অন্যদিকে, চাঁচলের এসডিপিও শুভেন্দু মন্ডল জানান, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তবে জালালপুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক সাফ অভিযোগ করে জানান, এলাকায় বোমা মজুত সহ বোমা বিস্ফোরণের জন্য শাসকদলের চাঁচল-২ ব্লক সভাপতি হবিবুর রহমান মুখিয়ার লোকজন দায়ী। এলাকায় ক্ষমতা দখলের জন্য হবিবুর রহমান মুখিয়ার অঙ্গুলিহেলনে বুধবার গভীর রাতে এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে চাঁচল-২ ব্লক সভাপতি হবিবুর রহমান মুখিয়া বলেন, ‘তিনি কখনও হিংসার রাজনীতি করেন না। শান্তির রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে কারা রাতে বোমা বিস্ফোরণ ও এলাকায় মজুত রেখেছিল বোমা তা পুলিশ তদন্ত করুক। তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা জড়িত।’