ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার, ৫ জুলাই : সম্প্রতি বানারহাটের কাছে ফের ট্রেনে কাটা পড়ে হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেল আবার জঙ্গলের পথে ট্রেনের গতিবেগ বাড়াতে বন দপ্তরের কাছে প্রস্তাবও দিয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে যখন পরিবেশপ্রেমীরা সরব হয়েছেন, সেই সময় ট্রেনে কাটা পড়ে হাতির মৃত্যু রুখতে অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন দীপাঞ্জন রায়। তিনি জলপাইগুড়ি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। আলিপুরদুয়ারের শহর লাগোয়া ঘাগরার হরতকিতলা এলাকায় তাঁর বাড়ি। বি টেকের এই ছাত্র যে পদ্ধতির কথা বলছেন তার নাম থার্মাল ইনফ্রারেড ভিশন অ্যান্ড ডায়নামিক ইমেজ প্রসেসিং। দীপাঞ্জনের তৈরি করা এই পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে শোরগোল পড়েছে।

দীপাঞ্জনের বাবা দিলীপ রায় রেলের টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত। মা লীলাবতী দেববর্মন আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের নার্স। দীপাঞ্জন জানান, যে পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করেছেন তার মাধ্যমে রেললাইন ও তার সংলগ্ন এলাকায় হাতি সহ অন্য বন্যজন্তুর উপস্থিতি জানা যাবে। শুধু উপস্থিতিই নয়, ট্রেনের চালককে ওই প্রযুক্তি বন্যজন্তুর উপস্থিতি সম্পর্কে জানাবে। পাশাপাশি, ট্রেনের চালক কোনোভাবে ব্যবস্থা নিতে না পারলে ওই যন্ত্রের মাধ্যমেই স্বযংক্রিয়ভাবে রেলের ডায়নামিক ব্রেকের সাহায্যে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

দীপাঞ্জন বলেন, মূলত থার্মাল ভিশন ক্যামেরা ও একটি অত্যাধুনিক প্রসেসিং ইউনিটের মাধ্যমে এই কাজ করা সম্ভব। এই ক্ষুদ্র ইউনিটটি পোর্টেবল, যা শিলিগুড়িতে কোনো ট্রেনের ইঞ্জিনে লাগিয়ে আবার আলিপুরদুয়ার জংশন রেলস্টেশনে তা খুলে নেওয়া যাবে। এটি অত্যন্ত কম খরচে তৈরি করা যায়।

বিষয়টি শুনে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের সিনিয়ার ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার অমরমোহন ঠাকুর বলেন, আমাদের সেফটি বিভাগ রয়েছে। ওই ছাত্র যা আবিষ্কার করেছেন তা নিয়ে আমাদের এখানে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি সত্যিই ওই পদ্ধতির বাস্তব ভিত্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।