ভরা ভাদ্রে ধানে পোকা

780

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: পঙ্গপাল নয়, পোকার আক্রমণে পথে বসতে চলেছেন মাদারিহাটের চাঁপাগুড়ি গ্রামের কৃষকরা। এলাকার প্রায় দেড়শো বিঘা জমিতে চাষ করা ধান গাছ পোকার আক্রমণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা মারা যাচ্ছে না, এমনটাই জানাচ্ছেন কৃষকরা। অথচ, কৃষি দপ্তর ওই এলাকায় নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়েছে ধানচাষিদের। এদিকে, প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছে ব্লক কৃষি দপ্তর। রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁপাগুড়ি গ্রামের জমি অত্যন্ত উর্বর। প্রতি বছর কয়েকশো বিঘা জমিতে ধান, পাটচাষ হয় ওই এলাকায়।

তবে, এবছর পোকার আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। তাঁরা জানান, বাগঝোরার উত্তর দিকে চাষ করা প্রায় প্রত্যেকটি জমির ধান গাছ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনও জমির ধান গাছের পাতা মুড়িয়ে খেয়েছে পোকার ঝাঁক। কোনও জমির ধান গাছ আবার পোকার আক্রমণে হলুদ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মূলত পায়জাম, চায়না মুসুরি, যমুনা ও বঙ্গবন্ধু প্রজাতির ধান চাষ করেছিলেন তাঁরা। এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পায়জাম ও চায়না মুসুরি ধানের খেত।

- Advertisement -

এলাকার অলিয়ার রহমানের ৭ বিঘা, সাহাজল হকের ৫ বিঘা, আমজাদ আলির ৮ বিঘা, মনসুর আলির ৮ বিঘা সহ বহু কৃষকের জমির ধান গাছ মুড়িয়ে খেয়েছে পোকার ঝাঁক। ক্ষতিগ্রস্ত অলিয়ার রহমান বলেন, এধরনের পোকা এবছর প্রথমবার হানা দিল। এর আগে পোকা হানা দিলে কীটনাশক স্প্রে করলে পোকা মরে যেত। কিন্তু এবছর কড়া কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা মারা যাচ্ছে না। এধরনের পোকা আগে দেখিনি। সাহাজল হক বলেন, লাগাতার কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা না মরায় আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। কৃষি দপ্তরের লোকজনও আসে না। তাই কীভাবে কী করব বুঝতে পারছি না। হামিদার রহমান নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ করা ধান গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কী করে পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচব তা ভেবে পাচ্ছি না।

কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, তাঁদের প্রযোজনীয় পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজ কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক বা কেপিএসদের করার কথা। কিন্তু বহুদিন ধরে এলাকায় কেপিএসদের দেখা মেলে না বলে অভিযোগ চাঁপাগুড়ি সহ মাদারিহাটের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের। ফলে কৃষি দপ্তরের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে। মাদারিহাটের ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা দীপেন দাহাল বলেন, ব্লকের দশটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কমপক্ষে দশজন কেপিএস থাকার কথা। কিন্তু রয়েছেন মাত্র দুজন। স্বাভাবিকভাবেই, ব্লকের অনেক এলাকার কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। চাঁপাগুড়ির কৃষকরা কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন জানি না। তবে, সব ধরনের কীটনাশকে সব পোকা মরে না।