পিকনিকের বদলে এবার তীর্থভ্রমণের আয়োজন তৃণমূলের

140

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : বিজেপির মোকাবিলায় পিকনিকের পরিবর্তে এবার তৃণমূল কোঅর্ডিনেটরদের একটা বড় অংশ নিজেদের ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ধর্মীয় স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। গত কয়েক বছর বাসিন্দাদের পিকনিকে নিয়ে গেলেও পুরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর প্রদীপ গোয়েল শনিবার তাঁর ওয়ার্ডের প্রায় সাড়ে সাতশো বাসিন্দাকে কানকিধামে নিয়ে যান। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের তরফে এই ধরনের জনসংযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাস ছাড়ার আগে তৃণমূল জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকারকেও এদিন উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। রঞ্জনবাবু নিজেও তাঁর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রতিবছর পিকনিকে নিয়ে যান। তিনিও এবারে তাঁদের  কোনও এক ধর্মীয় স্থানেই নিয়ে যাবেন। রঞ্জনবাবুর কথায়, তৃণমূলের অধিকাংশ কাউন্সিলারই এবারে পিকনিকের পরিবর্তে ধর্মীয় স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর পিছনে করোনাকে তুলে ধরা হলেও বিষয়টিকে শাসকদলের স্ট্র‌্যাটেজি হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসংযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। এক্ষেত্রে পিকনিকই হাতিয়ার প্রাক্তন কাউন্সিলারদের। তবে এবার বিজেপি ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলায় পিকনিক স্পটের পরিবর্তে ধর্মীয় স্থানকে বেছে নিয়েছেন শাসকদলের নেতারা। ওয়ার্ডে কাউন্সিলার হওয়ার পর থেকেই প্রতিবছর শীতের মরশুমে চড়ুইভাতি করে আসছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কোঅর্ডিনেটর প্রদীপ গোয়েল। ২০১৫ সালে বাবাধামে গেলেও গত কয়েক বছর ধরে ওয়ার্ডবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন পিকনিক স্পটেই গিয়েছেন প্রদীপবাবু। এবার গেলেন কানকিধামে। দলীয় পতাকা, ফ্লেক্সে সাজানো বাসে ওয়ার্ডের ৭০০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে শনিবার কানকিধামে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি, পুজোর সামগ্রীও ওয়ার্ড কমিটির তরফেই দেওয়া হয়। প্রদীপবাবু বলেন, এবারে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের আমরা কানকিধামে নিয়ে যাচ্ছি। একই পথে হাঁটছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর রঞ্জন সরকারও। জায়গা ঠিক না হলেও ওয়ার্ডবাসীদের যে কোনও ধর্মীয় স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। পুরনিগমের ৩৭ নম্বর কোঅর্ডিনেটর রঞ্জন শীলশর্মা বলছেন, আমার এবারেও পিকনিকে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে স্কুল বাস ও ঘন কুয়াশার জন্য একটু সমস্যা হচ্ছে। কারণ ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড মিলে আমাদের ৬০টি বাস লাগবে। রাজগঞ্জে একটা মন্দিরের ভিতর বড় মাঠ রয়েছে। ওই জায়গা ঠিক করেছি। তা না হলে গজলডোবার ভিতর সরকারি জায়গায় যাব। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি প্রধানত ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছে। তাই পালটা তৃণমূলও ওয়ার্ডবাসীদের ধর্মীয় স্থানে নিয়ে গিয়ে মন পেতে চাইছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, আমরা সবসময়ে চাইছি শিলিগুড়িতে ও গোটা রাজ্যে সমস্ত ভাষাভাষী, সমস্ত ধর্মের মানুষ একত্রিত থাকুক। এটাই গোটা ভারতবর্ষ ও বাংলার সংস্কৃতি। এই ধরনের কাজ আমরা চালু রাখব।