পড়াশোনার বদলে বিঁড়ি বাঁধছে রুমকিরা

105

করণদিঘি: পারিবারের আর্থিক অনটনের সুযোগ নিয়ে বিঁড়ি বাঁধার কাজে লাগানো হচ্ছে শিশুদের। তাদের মধ্যে রয়েছে ছয় বছরের রুমকি দাস ও সাত বছরের রুকসেনা খাতুন। এখন তাদের লেখাপড়া করার বয়স হলেও বাকি ছেলে মেয়েদের মতো তারা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের শৈশব। অল্প বয়সে বিঁড়ি বাঁধার কাজে যুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ছোট ছোট ওই শিশুরা। সঙ্গে রয়েছে নিরক্ষরতার অভিশাপও‌।

জেলা শিশু শ্রমিক প্রকল্প দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি ব্লকের ৭৮৫৪ জন শিশু কন্যা বিড়ি শ্রমিক। শিশু শ্রমিক স্কুল ৪০টি। মাত্র ১৬ জন শিশু সেখানে ভর্তি। তার মধ্যে করণদিঘি ব্লকের রয়েছে ৩২টি স্কুল। স্কুলের অভাবে ৬২৫৪ জনকে ভর্তি করা যায়নি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে শিশুদের এখনও স্কুলে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি তাদের জন্য প্রয়োজন আরও ৯৫টি স্কুল। এবিষয়ে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদের পরই শিশু কন্যা বিড়ি শ্রমিকদের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে উত্তর দিনাজপুর। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে করণদিঘি ব্লকের রসাখোয়া, আলতাপুর, দোমোহনা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার মহিলা এই পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েছে।

- Advertisement -

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ হাজার। এরপর ওই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭৮৫৫। সংখ্যা কমলেও সমস্ত শিশুকে স্কুলে আনতে না পারায় বাড়ছে নিরক্ষরতা। প্রতিটি পরিবারের পাঁচ-ছয় জন শিশুর মধ্যে গড়ে একজন করে স্কুলে আসছে। ওদের ১৫০ টাকা করে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। শৈশবে কোনও রোগে আক্রান্ত না হলেও পরে শতকরা ৮০ শতাংশ যুবতী আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, দাঁত ও ফুসফুস সংক্রান্ত বিভিন্ন মারণ রোগেও। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এন সি পাল বলেন, ‘যে সমস্ত মেয়েরা বিড়ি বাঁধছেন সঙ্গে শিশুদের নিয়ে তাতে ক্ষতি হচ্ছে মা ও শিশু উভয়েরই। এর ফলে নানা ব্যাধির সম্মুখীন হবেন শিশু শ্রমিকরা। বাদ যাবেন না মায়েরা।’