জলপাইগুড়িতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বেড়েছে

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : করোনা সংক্রমণ রুখতে সরকারিভাবে জারি করা লকডাউনে সাধারণ মানুষ যখন গৃহবন্দি, তখন প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে অভাবনীয় কাজ করল জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। এপ্রিল এবং মে এই দুই মাসে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব দেড়গুণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেব অনুসারে গত বছর এপ্রিল-মে মাসে জেলায় গড়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হয়েছিল ২,২৪৮ জনের। এ বছর এই দুই মাসে সেই সংখ্যা ৩,৪৫৫।

সব ভাবী মা যাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তানের জন্ম দেন সেই চেষ্টা চালাচ্ছে জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। ১০০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের লক্ষ্যমাত্রা রেখে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব ছাড়াও মালবাজার সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল, মেটেলি, ময়নাগুড়ি, নাগরাকাটা ও রাজগঞ্জে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হয়ে থাকে। আবার কোচবিহারের হলদিবাড়ি, মেখলিগঞ্জ এলাকার বহু ভাবী মা জলপাইগুড়ির মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব থেকে পরিষেবা পেয়ে থাকেন। বছর তিনেক আগে ময়নাগুড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে রাজ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জন করে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেব অনুসারে গত আর্থিক বছরে জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হয় ২৬,৯৮৩ জনের। বাড়িতে প্রসব হয় ১৫৩ জনের।

- Advertisement -

এর মধ্যে ধূপগুড়িতে প্রসব হয় ২,৯৯৮ জনের, ময়নাগুড়িতে ২,২৯৪ জনের, নাগরাকাটায় ১,১৬৬ জনের। পাশাপাশি রাজগঞ্জ, মাল, মেটেলি রয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়ি মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে হয় ১৮,৪৪১ জনের। কিন্তু এ বছর কেবল লকডাউনের মাঝে এপ্রিল-মে মাসেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হয়েছে ৩,৪৫৫ জনের এবং বাড়িতে প্রসব হয়েছে ২১ জনের। এর মধ্যে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে ২,৩৯৬ জনের, ধূপগুড়িতে ৩৭১ জনের, ময়নাগুড়িতে ২৯৪ জনের, নাগরাকাটায় ১৪২ জনের। এছাড়াও মাল, মেটেলি, রাজগঞ্জ ব্লকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হয়েছে। দেখা যাচ্ছে প্রতিটি জায়গাতেই গড়ে গত বছরের তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বেড়েছে।

করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দপ্তরের উত্তরবঙ্গের ওএসডি ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, আমরা লকডাউনের সময় পরিকল্পনা করেই কাজ করতে পেরেছি। তারই ফল এই পরিসংখ্যান। লকডাউনের সময় গাড়ির কিছুটা সমস্যা ছিল। তবে আমরা ১০২-এর অ্যাম্বুল্যান্সগুলিকে পরিকল্পনা করে ব্যবহার করেছি। খবর পাওয়ার পরই আমরা ওই অ্যাম্বুল্যান্সে গর্ভবতীদের হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। তাছাড়া করোনা সংক্রমণ নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। যে কারণে এখনও পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের জায়গায় মা বা শিশুর সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসেনি।