শিলিগুড়ির ১৬টি নার্সিংহোমকে করোনা চিকিৎসা শুরুর নির্দেশ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের

632
ফাইল ছবি

শিলিগুড়ি: করোনা চিকিৎসা শুরু করার জন্য শিলিগুড়ির ১৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমকে নির্দেশিকা পাঠাল দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

পাশাপাশি জেলায় মৃত্যুর হার বাড়ায় ডেথ অডিট কমিটিও গঠন করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য এই দুটি নির্দেশিকা জারি করেছেন।

- Advertisement -

শিলিগুড়িতে তিনমাসের বেশি সময় ধরে করোনার চিকিৎসা চললেও মহকুমায় সংক্রমণ ও মৃত্যু দুইই বেড়েই চলেছে। সরকারি হিসাবে শিলিগুড়িতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৮০ জন সংক্রামিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে সংক্রামিতদের রেখে চিকিৎসা করার জন্য সরকার থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।

পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব ছাড়াও দার্জিলিংয়ের জেলা শাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক একাধিকবার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। তবে সরকারের আবেদনে কোনও বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম সাড়া দেয়নি। উত্তরবঙ্গে কোভিড-১৯ মোকাবিলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওএসডি ডাঃ সুশান্ত রায় বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও সমস্যা মেটেনি।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, আর অনুরোধ নয়, এবার নির্দেশিকা জারি হবে। সেইমত শুক্রবার দার্জিলিং জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়। নির্দেশিকায় প্যারামাউন্ট নার্সিংহোম, সানরাইজ নার্সিংহোম, নবজীবন হাসপাতাল, মেডিকা ক্যানসার হাসপাতাল, বাসু ক্লিনিক, ডাঃ মলয় হাসপাতাল, শান্তি স্বাস্থ্যালয়, নর্থবেঙ্গল ক্লিনিক, মিত্র ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিংহোম, সঞ্জীবনী নিউরো অ্যান্ড মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, নেওটিয়া গেটওয়ে হেলথকেয়ার সেন্টার, হেরিটেজ হাসপাতাল, আরোগ্য নিকেতন নার্সিংহোম, নিবেদিতা নার্সিংহোম, কিনস হাসপাতাল ও মুখার্জি হাসপাতালকে এর আওতায় আনা হয়েছে।

এই ১৬ বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে করোনা চিকিৎসার জন্য ১০ শতাংশ শয্যা বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে বলা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকা পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিটি নার্সিংহোমকে সোমবারের মধ্যে লিখিতভাবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এদিনই দার্জিলিং জেলায় কোভিড-১৯ নিযে ডেথ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তিন সদস্যের এই কমিটিতে জেলা যক্ষ্মা আধিকারিক, কার্সিয়াং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ অরূপ পাল ও শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের অ্যানাস্থেটিস্ট ডাঃ চন্দনা চাওলা রয়েছেন।

এখনও পর্যন্ত হিমাঞ্চল বিহার ও কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালে যে রোগীরা মারা গিয়েছেন এই কমিটি তাঁদের কেস হিস্ট্রি পরীক্ষা করে দেখবে। তাঁরা করোনা নাকি কো-মর্বিডিটিতে মারা গিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।