বন্যপ্রাণীদের হানার জেরে বিকল্প চাষে জোর

শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : হাতি, বানর ও বুনো শুয়োরের আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে বনবস্তির বাসিন্দারা ধান, ভুট্টা বাদ দিয়ে আদা, হলুদ ও সর্ষে চাষে জোর দিয়েছেন। বিকল্প চাষে বনবস্তির বাসিন্দারা কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখছেন। আগামীদিনে আরও বেশি করে বিকল্প চাষ করে লাভের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর হামলা থেকে রক্ষা পেতে বদ্ধপরিকর গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া বিচাভাঙ্গা ও সরস্বতী বনবস্তির কয়েকশো বাসিন্দা।

গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া বিচাভাঙ্গা ও সরস্বতী বনবস্তি। জঙ্গলের হিংস্র বন্যপ্রাণী হাতি, চিতাবাঘ, বন্য শূকর প্রায় প্রতিদিনই বনবস্তিতে উৎপাত করে। বন্য জীবজন্তুর হামলায় বনবস্তির বাসিন্দারা প্রাণ হারান। অনেক সময় জমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই জঙ্গল লাগোয়া বিচাভাঙ্গা ও সরস্বতী বনবস্তির বাসিন্দারা ধান, আলু, ভুট্টার পরিবর্তে আদা, হলুদ ও সর্ষে চাষ শুরু করেছেন। সরস্বতী বস্তির বাসিন্দা কালু ওরাওঁ, চিনু ওরাওঁ জানান, চাষ-আবাদ করেই তাঁরা জীবিকানির্বাহ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, যতবার তাঁরা ধান, আলু, ভুট্টা চাষ করেছেন, ততবার তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কারণ প্রতিবার ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গেই হাতির পাল খেতে এসে বিঘের পর বিঘে ধান সাবাড় করেছে। স্থানীয়রা জানান, বন্যপ্রাণীর হামলা থেকে জমির ফসল বাঁচানোর জন্য তাঁদের দিশেহারা অবস্থা হয়েছিল। এরপর গত কয়েক বছর ধরে জঙ্গল লাগোয়া বনবস্তি বাসিন্দারা বন দপ্তর ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পরামর্শে বিকল্প চাষ শুরু করেন। তারপর থেকে বিকল্প চাষ করে বনবস্তির বাসিন্দারা লাভের মুখ দেখছেন। স্থানীয় দুই বনবস্তির ৩০ জন কৃষক বিকল্প এই চাষ-আবাদ শুরু করেছেন।

- Advertisement -

সরস্বতী বনবস্তির মনু ওরাওঁ, অমল ওরাওঁ জানান, তাঁদের গ্রামে প্রায় ৩০ বিঘে জমিতে বিকল্প চাষ শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার কৃষকরা তাঁদের জমিতে এই বিকল্প চাষ করছেন। তাঁরা জানান, আদা, হলুদ চাষে তেমন খরচ নেই। বাজারে চাহিদাও রয়েছে। পাইকাররা গ্রামে এসেই আদা, হলুদ নিয়ে যান। ময়নাগুড়ির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায় জানান, বনবস্তিগুলিতে ফসল খাওয়ার জন্য বন্যপ্রাণীরা হামলা চালাত। ফলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হত। সংগঠনের তরফে বনবস্তি সংলগ্ন কৃষকদের ধান, গম, ভুট্টার পরিবর্তে আদা, কচু, হলুদ চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই চাষ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। জলপাইগুড়ি বন বিভাগের মৃদুল কুমার জানান, বিকল্প চাষের জন্য বনবস্তিগুলিতে নানা কর্মশালা করা হয়েছে। বিচাভাঙ্গা ও সরস্বতী বনবস্তির পাশাপাশি কালামাটি ও কাউয়াগাব গ্রামের বহু বনবস্তির বাসিন্দা বিকল্প চাষ শুরু করেছেন।