যুব সংগঠনের কমিটি নিয়ে ফালাকাটায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে

355

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কোন্দল কমার কোনও লক্ষণ নেই। মূল সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে কোন্দলের পর এবার তৃণমূল যুবরও গোষ্ঠী কোন্দল প্রকট হল। যুব সংগঠনের একাধিক অঞ্চল কমিটি নিয়ে দলের অন্দরে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বুধবার তৃণমূল যুবর পূর্ণাঙ্গ ব্লক ও অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করা হয়। ব্লক কমিটি নিয়ে কোনও সমস্যা না হলেও অঞ্চল কমিটিগুলিতে ব্যাপক রদবদল হওয়ায় কোন্দল প্রকট হয়েছে।

সূত্রের খবর, অঞ্চল সভাপতির পদ খোয়ানোয় যুব নেতাদের একাংশ বৃহস্পতিবার ফালাকাটার পাঁচ মাইলে আরেক বিক্ষুব্ধ যুব নেতা সঞ্জয় দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে সরানো হলেও বিক্ষুব্ধ এই নেতাদের ব্লক কমিটির নানা পদ দেওয়া হয়। কিন্তু এদিনের বৈঠকে তাঁরা ওইসব পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বলে স্থির করেছেন। অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়ে অপরিচিতদের নতুন অঞ্চল সভাপতি করা হয়েছে। তাই বিক্ষুব্ধরা দলে থেকে দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন। যুব সংগঠনের এই কোন্দল ফালাকাটায় দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। যদিও বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্লক ও জেলার নেতারা।

- Advertisement -

এই কোন্দল প্রসঙ্গে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ কর বলেন, ‘এব্যাপারে ব্লক সভাপতি যা বলার বলবেন। আমার কাছে বিষয়টি এলে আলোচনা করে দেখা হবে।’ তৃণমূল যুবর ফালাকাটা ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে বলেন, ‘সবার সম্মতি নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হয়। অনেকের পদোন্নতি হওয়ায় ব্লক কমিটিতে পদ দেওয়া হয়।’ পুরোনো অঞ্চল সভাপতিদের না জানিয়ে পদ বদল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে বারবার মিটিং করা হয়। অনেককে ফোনও করা হয়। কিন্তু মিটিং বা ফোনে কেউ কেউ সাড়া দেননি।’

দুর্গাপুজোর আগেই ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনে কোন্দল প্রকাশ পায়। তৃণমূল যুবর ব্লক সভাপতির পদ খোয়ানোয় প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন সঞ্জয় দাস। দলে থাকলেও দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব এখনও কমেনি। এদিকে সন্তোষ বর্মন মারা যাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ব্লক সভাপতি করা হয় সুভাষ রায়কে। সম্প্র‍তি মূল সংগঠনের ব্লক ও ১২টি অঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়। নতুন অঞ্চল সভাপতি নিয়ে ফালাকাটা-২’র পূর্বাংশে কোন্দল প্রকাশ পায়। এসব ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট নিচ্ছে পিকে’র টিম। তবে এই কোন্দলের আবহেই বুধবার তৃণমূল যুবর পূর্ণাঙ্গ ব্লক ও সাংগঠনিকভাবে ১৫টি অঞ্চল কমিটি ঘোষনা করা হয়। এক্ষেত্রে ১০ জন অঞ্চল সভাপতি বদল করায় এদিন সংগঠনের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়।

দলীয় সূত্রে খবর, যুব সভাপতি থাকাকালীন সঞ্জয় দাসের অনুগামীরাই অঞ্চলের যুব সভাপতি ছিলেন। তাঁদের একাংশ সঞ্জয় দাসকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে দেখেন। বিক্ষুব্ধ নেতার অনুগামী হওয়াতেই অঞ্চল সভাপতির পদ খোয়াতে হয়েছে কি না তা নিয়ে এখন দলের ভিতরে চর্চা হচ্ছে। তাই পদ খোয়ানো যুব নেতাদের একাংশ এদিন পাঁচ মাইলে প্রকাশ্যে বৈঠক করেন। সেখানে সঞ্জয় দাসও উপস্থিত ছিলেন।

ধনীরামপুর-১’র পদ খোয়ানো অঞ্চল সভাপতি জাবেদুল আলম বলেন, ‘আমার অঞ্চলে যাঁকে নতুন সভাপতি করা হয়েছে তাঁকে লোকজনই চেনে না। এমনকি অঞ্চল সভাপতি বদল করা নিয়ে ব্লক সভাপতি আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাও করেননি। তাই নতুন অঞ্চল সভাপতিকে আমরা মেনে নেব না। আর আমাকে ব্লক কমিটির যে পদ দেওয়া হয়েছে, সেই পদ থেকেও ইস্তফা দেব।’

শহরের ফালাকাটা-১’র পদ খোয়ানো যুব নেতা পাপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘পদ থেকে সরানোর কারণ আমাকে জানানো হয়নি। তাই আমার কোনও পদ লাগবে না। দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে থাকব।’ একই বক্তব্য ময়রাডাঙ্গা অঞ্চল সভাপতির পদ খোয়ানো যুব নেতা কলিমউদ্দিন সরকারের। এব্যাপারে সঞ্জয় দাস বলেন, ‘ওঁরা বৈঠকে আমাকে ডেকেছিল। ওঁদের দল না ছেড়ে দলে থেকে এসবের প্রতিবাদ জানাতে বলেছি। আর ফালাকাটার এইসব সাংগঠনিক পরিস্থিতির কথা জেলার পাশাপাশি কলকাতার নেতাদেরও আমি জানাব।’