গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্নীতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, স্পষ্ট হুঁশিয়ারি মমতার

271
ফাইল ছবি।

কলকাতা: হাতের সামনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইশ্যু থাকা সত্ত্বেও দলের নেতারা মাঠে নেমে আন্দোলন না করায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলের বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁদের কড়া সমালোচনা করেন মমতা। দীর্ঘ বৈঠকে তিনি দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিজেপি মাঠে নেমে আন্দোলন করছে। ভার্চুয়াল জনসভা করে লোককে ভুল বোঝাচ্ছে। অথচ হাতের সামনে বড় বড় ইশ্যু পেয়ে তোমরা চুপচাপ বসে আছ।’

তৃণমূল সূত্রের খবর, দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বার্তা দিতে মমতা বলেছেন, ’কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে তাঁকে দল থেকে বের করে দেওয়ার হিম্মত একমাত্র আমাদেরই আছে।’ বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি ত্রাণ নিয়ে যেসব অভিযোগ তুলছে তার মোকাবিলায় এলাকায় গিয়ে একথা বুক বাজিয়ে বলতে নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ’চোখে চোখ রেখে অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। চুপ করে ঘরে বসে থাকলে চলবে না।’ দুর্নীতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

- Advertisement -

বিজেপি ও অন্য বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ৭ জুলাই থেকেই মাঠে নেমে প্রচার করতে নির্দেশ দেন মমতা। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, রেলের বেসরকারিকরণ ইত্যাদির প্রতিবাদে তিনি সমস্ত বিধায়ক ও সাংসদদের পথে নেমে আন্দোলনের নির্দেশ দিয়েছেন। মমতা বলেন, ’বিরোধীরা করোনা ও আমপানের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় কোথায় ছিল? এখন ঘোলাজলে মাছ ধরতে চাইছে। ভার্চুয়াল জনসভা করে অপপ্রচার চালাতে চাইছে।’ তিনি নেতাদের জানিয়ে দেন, এতদিন করোনা ও আমপান মোকাবিলায় সময় চলে গিয়েছে। এবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ঢুকে পড়তে হবে। নিজেদের মধ্যে সব বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে এক হয়ে নামতে হবে সবাইকে।

প্রতিবছর ধর্মতলায় ২১ জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশ করে তণমূল। এবছর করোনা আবহে যে তা সম্ভব হবে না, তা আগেই জানিয়েছিলেন মমতা। এদিন তিনি জানিয়ে দেন, ধর্মতলায় সমাবেশ হবে না। ভার্চুয়াল জনসভা হবে। কালীঘাট থেকেই সেই সভায় ভাষণ দেবেন দলনেত্রী। রাজ্যের সর্বত্র জায়ান্ট স্ক্রিনে তা দেখানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। বুথে বুথে পর্দা টাঙিয়ে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে এদিন যথেষ্ট ক্ষোভ জানান তণমূলনেত্রী। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার সহ কয়েকটি জেলা ও দক্ষিণবঙ্গের দু-একটি জেলার কিছু নেতার নাম করে দলনেত্রী হুঁশিয়ারি দেন, গোষ্ঠীবাজি আর বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।