পশ্চিমী দুনিয়ার শিল্পকারখানায় গত কয়েক বছরে রোবটের উপর বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রোবটিক্স-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রোবটের বিক্রিও বেড়েছে দ্বিগুণ। কিন্তু রোবটদের কাজের ক্ষমতা এবং দক্ষতা এখনও সীমাবদ্ধ। এখনও রোবটরা সবরকমের কাজ করতে অভ্যস্ত বা প্রশিক্ষিত হয়ে ওঠেনি। রোবটদের আপনি একইধরনের কাজ করতে দিন, ওরা করেই চলবে। যেমন, গাড়ির কাঠামোয় ওয়েল্ডিঙের মতো কাজ তারা বিরামহীনভাবে করে যেতে পারে। এই কাজে রোবটের ধারেকাছে পৌঁছতে পারবে না মানুষ। কিন্তু বাঁধাধরা ছকের বাইরে রোবটদের কাজ করতে দিন, রোবটরা অস্বস্তিতে পড়ে যাবে। যেমন, ঘর সাফাই অথবা বাচ্চাদের অগোছালো ঘর গুছিয়ে তোলা। এখন ‘ডিপ লার্নিং’ নামে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির প্রয়োগে রোবটদের এমন কাজে অভ্যস্ত করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে টোকিওর একটি সংস্থা। সবার আগে ওই সংস্থা দুটি রোবটকে শিশুদের ঘর গোছানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। একটি শিশুকে উদ্বুদ্ধ করে তাকে দিয়ে এই কাজ করানো হয়তো সম্ভব। কিন্তু রোবটকে দিয়ে নয়। রোবটের এক্ষেত্রে অনেকরকমের সমস্যা। প্রথমত, জিনিসপত্র চিহ্নিত করার সমস্যা। দ্বিতীয়ত, কোন জিনিস কোথায় রাখতে হবে, কোনটা গুছিয়ে রাখতে হবে, কোনটা ফেলে দিতে হবে, তা ঠিক করার সমস্য্যা। আলাদা আলাদা করে সব জিনিস চিহ্নিত করতে হয় তাদের। সব অদরকারি জিনিস জড় করে তারা একসঙ্গে ফেলে দিতে পারে না।

ফলে এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে তাদের কাজের গতি অনেক কম। রোবটরা যে ধরনের কাজের জন্য প্রশিক্ষিত নয়, সেরকম কাজের সামনে পড়লে তারা বোকা হয়ে যায়। কোন মোজাটা সন্তানের, কোনটা বাবার, রোবটরা তা বুঝে উঠতে পারে না। এখন টোকিওর স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতার আশা, পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি এমন রোবট তৈরি করে ফেলতে পারবেন যারা ঘর সাফাই এবং ঘর গোছানোয় দক্ষ। এই স্টার্টআপে এমন একটি সংস্থার বিনিয়োগ রয়েছে যাদের তৈরি রোবট বিশ্বের বহু আধুনিক কারখানায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আধুনিক কারখানায় রোবটদের রমরমায় কি দক্ষ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন? সব বিশেষজ্ঞ তেমন মনে করেন না। যেমন ক্যালিফোরনিয়ায় টেসলা ইলেকট্রিক কার ফ্যাক্টরিতে উৎপাদনে দেরি হওয়ায় এলন মাস্ক মানতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, অত্যধিক অটোমেশনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। টুইটবার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষের দক্ষতাকে ছোট করে দেখা হয়েছে।’