ভারতীয় শেয়ার বাজারে ক্রমশ আস্থা ফিরছে লগ্নিকারীদের

448

কিশলয় মণ্ডল : একাধিক নেতিবাচক ইশ্যুকে দূরে সরিয়ে রেখে ফের ঊর্ধ্বমুখী দৌড় শুরু করল শেয়ারসূচক সেনসেক্স ও নিফটি। এই প্রবণতা বজায় থাকলে শেয়ার বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়। তবে অর্থনীতির প্রাথমিক বিষয়গুলি যতদিন না মজবুত হচ্ছে, ততদিন পতনের আশঙ্কা থাকবে। লগ্নিকারীদের তাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পোর্টফোলিওতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। শেয়ার বাজারের সেই চোরাস্রোত সামলে দিতে পারলে ভবিষ্যতে বড় মুনাফা করা যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের দাপট অব্যাহত রয়েছে। চিনের দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলেছে এই মারণ ভাইরাস। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা চলছে। যত বেশি দিন এর প্রভাব থাকবে, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে তত বেশি সময় লাগবে। এই কারণে গত সপ্তাহে বিশ্বের বেশিরভাগ শেয়ারসূচক নিম্নমুখী ছিল। লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চিনের সেনা তত্পরতাও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সীমান্তে যতদিন উত্তেজনা থাকবে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শেয়ার বাজারে। এজিআর নিয়ে শুনানি চলছে দেশের শীর্ষ আদালতে। সেই মামলার গতিপ্রকৃতিও প্রভাব ফেলবে শেয়ার বাজারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক কোনদিকে গড়ায় এবং বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের সিদ্ধান্ত সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। রেটিং না কমালেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক করেছে নামি রেটিং সংস্থা ফিচ। এই সিদ্ধান্ত বিদেশি লগ্নিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

- Advertisement -

আশঙ্কার পাশাপাশি আশার কথাও কম নেই। একেবারে সঠিক সময়ে বর্ষা ঢুকেছে এদেশে। এবার স্বাভাবিক বর্ষার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বর্ষা স্বাভাবিক হলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। টানা লকডাউনের পর আর্থিক কর্মকাণ্ড সচল হয়েছে। বিধিনিষেধ থাকলেও পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ার পথে। যা শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মহামারির এই আবহে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিওতে বিশ্বের নামি ১১টি সংস্থা প্রায় ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা লগ্নি করেছে, যা ভারতের অর্থনীতির ওপর লগ্নিকারীদের আস্থারই প্রমাণ। আর কয়েকদিন পর থেকে আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করা শুরু করবে বিভিন্ন সংস্থা। আর্থিক ফল শেয়ার বাজারের উত্থান-পতনে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সে কথা মাথায় রেখে লগ্নির পরিকল্পনা করতে হবে লগ্নিকারীদের। লগ্নি ছড়িয়ে দিতে হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রের শেয়ারে। লক্ষ্যপূরণ হলে শেয়ার বিক্রি করে হাতে নগদের সংস্থান রাখতে হবে। সূচকের পতন ফের লগ্নির সুযোগ তৈরি করতে পারে। সোনা, রুপোর বাজারে তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। আপাতত পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। প্রযোজন ছাড়া এখন  সোনা না কেনাই শ্রেয়।