ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্কে দ্রুত দাঁড়ি টানার ভাবনা বিনিয়োগকারীদের

68

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : মাঠ এবং মাঠের বাইরে সমস্যায় জর্জরিত ইস্টবেঙ্গল। বিনিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বিতর্ক থামার কোনও ইঙ্গিত নেই, তার মধ্যে নতুন ফাঁড়া ফিফার চিঠি। কোস্টারিকার বিশ্বকাপার জনি আকোস্টা ২০১৯-২০ মরশুমে লাল-হলুদে খেললেও তাঁর তিন মাসের বেতন বকেয়া। তা আদায় করতে ফিফার দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলার কোস্টারিকার এই অভিজ্ঞ স্টপার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইস্টবেঙ্গলের ওপরে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফিফা। সেই চিঠি ক্লাবকর্তাদের কাছে বর্তমান ইনভেস্টর সংস্থা পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি যা তাতে আকোস্টার বকেয়া অর্থ ক্ষতিপূরণ সহ না মেটালে আগামী ট্রান্সফার উইন্ডো থেকে জাতীয় পর্যায়ে কোনও ফুটবলারকে সই করাতে পারবে না ইস্টবেঙ্গল। ফলে নতুন মরশুমে দলগঠন নিয়ে আরও সমস্যার কবলে লাল-হলুদ।

ক্লাব সূত্রে খবর, শুধু আকোস্টা নন, ক্লাবের কাছে ইতিমধ্যে হাইমে স্যান্টোস কোলাডোর বকেয়া মেটানোর চিঠিও পাঠানো হয়েছে ফিফার তরফে। চুক্তিভঙ্গ ও বকেয়া টাকার হিসেব ধরলে কোলাডো-বিতর্কে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের দিতে হবে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা। ক্লাবের কাছে সাড়ে আট লাখের কাছে বকেয়া বাকি আকোস্টার। দুই বিদেশি ফুটবলারের অর্থ মেটাতে ৬৭ লাখের বোঝা এখন ক্লাবের ঘাড়ে। যা নিয়ে কার্যত দিশেহারা অবস্থা লাল-হলুদ কর্তাদের। কীভাবে মেটানো হবে অর্থ, আলোকপাত করতে পারেননি কর্মকর্তারা। এই প্রসঙ্গে নিজেদের পূর্বতন বিনিয়োগকারী সংস্থা কোয়েসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ইস্টবেঙ্গলের এক শীর্ষকর্তা। তাঁর বক্তব্য, কোয়েসের করে যাওয়া পাপ আমাদের বহন করতে হচ্ছে। ওরা একতরফাভাবে চুক্তিভঙ্গ করেছিল। যাকে ফিফা, এআইএফএফ কেউ মান্যতা দিচ্ছে না। ফিফার চিঠি আমরা পেয়েছি। ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।

- Advertisement -

ফেডারেশনের সঙ্গে এই ব্যাপারে এখনও ক্লাবের তরফে যোগাযোগ না করা হলেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, আকোস্টার বকেয়া মেটানোর ভাবনাচিন্তাও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে একা আকোস্টা নন, কোলাডো, কার্লোস নোদার সহ একাধিক ভারতীয় ফুটবলারের বেতন বকেয়া রেখেই ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি ছেদ করেছিল কোয়েস। সেই সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ ক্লাবের কর্মকর্তারা। ফলে আকোস্টা, কোলাডোর পর বাকি ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যার মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে ক্লাবের এই পরিস্থিতি নিয়ে বিরক্ত ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান বিনিয়োগকারী সংস্থা। পুরো বিষয়টি ক্লাব ও ক্লাবের প্রাক্তন ইনভেস্টর কোয়েসের মধ্যকার বিষয় বলেই এড়িয়ে গিয়েছেন। বিনিয়োগকারী সূত্রের খবর, ক্লাবের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে তাঁরা আগ্রহ হারিয়েছেন। ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি লাইসেন্সিং ইস্যুতে দ্রুত কাগজপত্র জমা না দিলে জটিলতা আরও বাড়বে। সে সব মাথায় রেখে ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কে দাঁড়ি টানার ব্যাপারে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন লাল-হলুদের বর্তমান বিনিয়োগকারীরা। সবমিলিয়ে সমস্যার পাহাড়ে ইস্টবেঙ্গল।