শেয়ার সূচক পড়লেও আতঙ্কিত না হয়ে সুযোগ নিতে হবে

443

কিশলয় মণ্ডল : লকডাউন পর্ব পেরিযে আর্থিক কর্মকাণ্ড সচল হওয়া শুরু হতেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ার সূচক। কোভিড-১৯এর দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ শুরুর আশঙ্কায় ফের ধাক্কা লাগল সেই উত্থানে। বিগত সপ্তাহে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শেয়ার বাজারে তাই বড় অঙ্কের পতন হয়েছে। সব থেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে এশিয়া এবং ইউরোপের শেয়ার বাজার। ভারতও সেই ধাক্কা এড়াতে পারেনি। আগামী কয়েক সপ্তাহ ফের অনিশ্চয়তা প্রভাব ফেলবে ভারতীয় শেয়ার বাজারে।

করোনা সংক্রমণের জেরে লকডাউন শুরু হওয়ার পর একসময় সেনসেক্স নেমে গিয়েছিল ২৬ হাজারের নীচে। সেখান থেকে দুমাসের মধ্যে সূচক ফের উঠে এসেছিল ৩৪ হাজারের ঘরে। করোনা ভাইরাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফের তা নেমে এসেছে ৩৩ হাজারের ঘরে। পরিস্থিতির বড় কোনও পরিবর্তন না হলে সূচক আরও নামতে পারে। তবে এ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে একে লগ্নির সুযোগ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। দাম কমলে গুণগত মানে ভালো শেয়ারগুলি অল্প অল্প করে কেনা যেতে পারে। ভারতীয় শেয়ার বাজারের বর্তমান নিয়ে যত শঙ্কাই থাকুক না কেন, আগামী  অর্থবর্ষের মাঝামাঝি সময় থেকে ফের তা স্বমহিমায় ফিরবে। পরিকল্পনামাফিক লগ্নি করলে ভারতীয় শেয়ার বাজার এখনও লগ্নিকারীদের বড় অঙ্কের মুনাফার সন্ধান দেবে।

- Advertisement -

এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতিতে সব থেকে বেশি প্রভাব ফেলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন। গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি অনেকটাই হাতের বাইরে চলে যাবে। এর ওপর আছে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ শুরুর আশঙ্কা। তাই করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে অনিশ্চয়তা বাড়বে। চলতি অর্থবর্ষে দেশের অর্থনীতি ৫.০ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিভিন্ন রেটিং সংস্থা। বাস্তবে জিডিপি কোথায় গিয়ে পৌঁছোয় নজর রাখতে হবে সেদিকে। আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন সংস্থা আর্থিক ফলপ্রকাশ শুরু করবে। বাজারের দিকনির্দেশে যা বিপুল প্রভাব ফেলবে। মার্কিন শেয়ার বাজার এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেয়ার সূচকের উত্থানপতনও ভারতের শেয়ার বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, এজিআর নিযে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। যা টেলিকম সংস্থাগুলির শেয়ার দরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সবমিলিয়ে বর্তমান নিয়ে আশঙ্কার পাল্লা এখন অনেকটাই ভারী। দীর্ঘ লকডাউন পর্ব পেরিযে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে গয়না শিল্প। লকডাউনে তেলের দাম কমে য়াওয়া এবং শেয়ার বাজারের পতনের কারণে অনেকটাই দাম বেড়েছে সোনার। গয়না শিল্পে য়া বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রযোজন না থাকলে এখন সোনা না কেনাই শ্রেয়।