আইপিএল শুরু হতেই দিনহাটা শহরে সক্রিয় জুয়াচক্র

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : করোনার জেরে গত কয়েক মাসে একাধিক ক্রিকেট সিরিজ যেমন বাতিল হয়েছে, তেমনই একাধিক লিগ পর্যায়ে ফুটবল ম্যাচও বাতিল হয়েছে। আইপিএল শুরু হতেই জেগে উঠেছে শহরের জুয়াচক্র। দিনহাটা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা এই কারবারের জাল বিস্তার করছে বলে খবর। এই কাজে বুকিরা মূলত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের মতো গ্যাজেট ব্যবহারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর অনুয়াযী, দিনহাটা শহরে ১২-১৪ জন বুকি রয়েছে, যারা এই জুয়ার কারবার পরিচালনা করে। এক-একদিনের খেলায় কোটি কোটি টাকা ওড়ে এই কারবারে। বুকিরা এক্ষেত্রে লিংকম্যানের ভূমিকা গ্রহণ করে। তারা দুপক্ষে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কে কোন ম্যাচ ধরে খেলবে এবং কত টাকা খেলবে, তার বোঝাপড়া করিয়ে দেয়। এই বুকিদের ওপরে যারা রয়েছে, তারা ভিনরাজ্যে বসে নির্দেশ দিয়ে যায়। এমনকি পুলিশ-প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে বুকিরা নির্দিষ্ট কোড নেমও ব্যবহার করে থাকে।

- Advertisement -

তবে প্রশ্ন উঠছে, শহরের মধ্যেই কী করে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সেক্ষত্রে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে রাজনৈতিক নেতাদের মদতের কথাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, মূলত কোনও এক বাড়ি থেকে বুকিরা তাদের এই কারবার পরিচালনা করে। এক শটে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লাগাতে পারে যে কোনও ব্যক্তি। সেক্ষেত্রে তারা ফোনে বুকিকে টিমের নাম ও কত শট খেলবে, তা বলে দেয়। এক্ষেত্রে বুকিদের কোনও লোকসান নেই, বরং তারা মাঝখানে থেকে উভয়পক্ষ থেকেই মুনাফা লুটছে। এই মুনাফার লোভেই এই জালে জড়িয়ে যাচ্ছে শহরের বেকার যুবক সম্প্রদায়। অনেকেই এই জালে জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে।

দুবছর আগেও রংপুর রোড সংলগ্ন এরকম একটি জুয়ার বোর্ডে অভিযান করতে যায় দিনহাটা থানার পুলিশ। সেসময় কারবারিরা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়। যদিও পরবর্তীতে পুলিশ অভিযুক্তদের ধরে ফেলে। এবছরও কারবারিরা আবার সক্রিয় হওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুলিশের। দিনহাটা জনজাগরণ মঞ্চ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য হিটলার দাস জানান, নবীন প্রজন্মের যুবকরা যেমন বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে, তেমনই জুয়ার জালেও জড়িয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। তাই পুলিশ-প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এবিষয়ে এসডিপিও মানবেন্দ্র দাস জানান, জুয়ার কারবার বন্ধে দিনহাটা পুলিশ সবসময় সক্রিয়। এক্ষেত্রেও সক্রিয়তার কোনও ত্রুটি থাকবে না এবং জুয়া বন্ধে তাদের অভিযান চলতে থাকবে।