চিনা স্পনসর নিয়ে আগামী সপ্তাহে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক

254

নয়াদিল্লি : মাত্র দু’দিনের মধ্যে অবস্থান বদলের সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে বেড়ে চলা উত্তেজনা কমার আপাতত কোনও ইঙ্গিত নেই। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মহল থেকে চিনকে পুরোপুরি বয়কটের ডাকও প্রবল হচ্ছে। এমন অবস্থায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে, আইপিএল সহ ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত যে সব চিনা কোম্পানি রয়েছে, তাদের সঙ্গে চুক্তির অবস্থান নতুনভাবে খতিয়ে দেখা হবে। সেই লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের রিভিউ বৈঠকও ডাকা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতের দিকে বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ অরুণ সিং ধুমল জানিয়েছিলেন, চিনা কোম্পানির থেকে স্পনসরশিপ বাবদ যে অর্থ আসে, তা ভারতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে। শেষপর্যন্ত সেই ভাবনা ও অবস্থান বদলের সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই। বোর্ডের তরফে যেভাবে চিন প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসা হয়েছে, তারপর স্পষ্ট দেশের অন্দরে চিন বয়কটের ডাক বিসিসিআইয়ে অন্দরেও সাড়া ফেলেছে। তাছাড়া আইপিএলের সঙ্গে প্রধান স্পনসর হিসেবে যেমন জড়িয়ে ভিভো, তেমনই পেটিএম, ড্রিম ইলেভেনের মতোও বেশ কয়েকটি চিনা কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বিসিসিআইয়ের। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে জোড়া ঘটনার মাধ্যমে। এক, সুরেশ রায়না-হরভজন সিংদের মতো বিখ্যাত ক্রিকেটাররাও চিনা সামগ্রী ও কোম্পানিকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন। দুই, চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বা সিটিআইয়ের তরফে বিসিসিআই সভাপতির কাছে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ে কাছে পাঠানো চিঠি। যেখানে সংস্থার আহ্বায়ক ব্রিজেশ গোয়েল জানিয়েছেন, বোর্ড যেন দ্রুত চিনা কোম্পানিদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে দেয়। এমনটা করা না হলে ভারতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি আইপিএল বয়কট করবে। শুধু তাই নয়, দেশের মাঠে কোহলিদের কোনও ম্যাচে দেশের কোনও বাণিজ্যিক সংস্থা পাশে থাকবে না। করবে না সাহায্যও।

- Advertisement -

এমন পরিস্থিতিতে চিনা কোম্পানিদের সঙ্গে বিসিসিআই সম্পর্ক ছিন্ন করলে ভারতীয় ক্রিকেটে বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থা তৈরি হতে পারে। ভেঙে পড়তে পারে বিসিসিআইয়ের আর্থিক পরিকাঠামোই। কারণ, আইপিএলের মূল স্পনসর ভিভো বছরে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা দেয় প্রতিযোগিতা আয়োজনে। নিয়মিত বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে নয়া স্পনসর পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন সম্পর্কের প্রত্যক্ষ প্রভাব এবার ক্রিকেট প্রশাসনেও পড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন অবস্থার মধ্যে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অফস্পিনার হরভজন সিং চিনকে বয়কটের ডাক দিয়ে বলেছেন, আমাদের আত্মনির্ভর হওযার সময় এসেছে। সেই পথে পা ফেলার এটাই সেরা সময়। আমাদের দেশে সব কিছু তৈরি করা সম্ভব। তাই চিনের উপর নির্ভর করার রাস্তা থেকে সরে এসে বিকল্প কিছু এবার ভাবা দরকার। এখানেই না থেমে হরভজন সিং আরও বলেছেন, আইপিএল নিজেই একটি ব্র‌্যান্ড। ফলে আইপিএলের অন্য কোনও ব্র‌্যান্ডের প্রয়োজন নেই। একইভাবে সুরেশ রাওনাও আজ চিনকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন। বলেছেন, লাদাখ সীমান্তে চিনা সৈন্যদের হাতে ভারতীয় জওয়ানদের মৃত্যুর ঘটনা তীব্র প্রভাব ফেলেছে সাধারণের মধ্যে। মৃত সব জওয়ানদের প্রতি আমি স্যালুট জানাতে চাই। ওঁদের পরিবারের জন্য সমবেদনা রইল। কিন্তু যে ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তারপর চিনকে বয়কট করার সময় এসেছে। আর এই বয়কট সবদিক থেকেই হওয়া প্রয়োজন। রায়না আরও বলেছেন, একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের দাযিত্ব ও কাজ হল, দেশকে খেলার মাঠে সফল করা। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য যদি চিনা সংস্থার সঙ্গে বোর্ডকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়, আমার অন্তত আপত্তি নেই। যদিও সবদিক ভেবে সিদ্ধান্তটা বিসিসিআইকে নিতে হবে।