নিয়ম ভাঙায় করোনা ছড়িয়েছে আইপিএলে

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : করোনার করাল গ্রাসে আইপিএল!

নিট ফল, প্রতিযোগিতা স্থগিত। চলতি বছরে হওয়ার সম্ভাবনা শেষ। সঙ্গে আগামী অক্টোবরের টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে সংশয়ে শুরু।

- Advertisement -

আইপিএলের মোট চার দলের অন্দরে করোনা হানার পর নিজেদের মধ্যে জরুরি টেলি কনফারেন্স করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, জয় শা-রা। সেই বৈঠকেই আইপিএল স্থগিতের সিদ্ধান্ত চড়ান্ত করা হয়। বিসিসিআই সচিব জয় শা বলেন, করোনা সংকট কাটেনি। বরং ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তাই বিসিসিআই ও আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল। ক্রিকেটার, কোচ, মাঠ কর্মী, সম্প্রচারকারী চ্যানেলের প্রতিনিধি- কারও জীবন বাজি রেখে আইপিএল এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি না আমরা। তাই সিদ্ধান্তটা নিতেই হল।

আইপিএল স্থগিত হওয়ার পাশে এখন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের জন্য সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হল, অক্টোবরে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজন। বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা এখনও আশাবাদী, অক্টোবরের আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কুড়ির বিশ্বকাপ নিয়ে সমস্যা হবে না। কিন্তু বোর্ডের একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, বিকল্প হিসেবে আইসিসি ইতিমধ্যেই ইউএই-র সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। ফলে বিসিসিআই আপাতত সবদিক থেকেই ব্যাকফুটে। জানা গিয়েছে, আগামী জুন মাসে টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে আইসিসি।

মোট আটটি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি দল ও বিসিসিআইয়ের অন্দরে উত্তরবঙ্গ সংবাদের তরফে আজ সারাদিন ধরে ছানবিন চালানো হয়েছে। নির্যাস হিসেবে উঠে আসছে, সরল সত্য। সঠিকভাবে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) অনুসরণ না করা। আইপিএল শুরুর আগে বোর্ডের তরফে সব দলকেই এসওপি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কার্যক্ষেত্রে সব নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়নি। বাস্তবে ফ্র‌্যাঞ্চাইজির পাশে আইপিএল স্থগিত হওয়ার জন্য সমানভাবে দায়ী বিসিসিআইও। বোর্ড মুম্বই-দিল্লির মতো কয়েকটি কেন্দ্রে মাঠ কর্মীদের জন্য জৈব সুরক্ষা বলয়ের ব্যবস্থা রাখেনি। কেন? জবাব নেই। পাশাপাশি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি দলগুলো সুবিধামতো হোটেল বুকিং করেছিল। যার মধ্যে জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরির ফাঁক থেকে গিয়েছিল। এসওপিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনও দল হোটেল থেকে চেকআউট করার পর যদি কিছুদিন পর সেখানে ফিরে আসে, তাহলে বুকিং শেষ করা যাবে না। এক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি।

বিভিন্ন ফ্র‌্যাঞ্চাইজির তরফে বোর্ডের কাছে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল, অল্প সংখ্যক শহরের মধ্যে হোক আইপিএল। সৌরভরা পাত্তা দেননি। ক্রিকেটারদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার পিছনে বিমানে এক শহর থেকে অন্যত্র যাওয়াকেও দাযী করা হচ্ছে। কারণ, যাত্রাপথে সবসময় সব নিয়ম মানা সম্ভব হয় না। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন দলের অনুশীলনের সময় মাঠে পর্যাপ্ত কর্মী ছিলেন না বলেও অভিযোগ। যার জন্য ক্রিকেটার বা ফ্র‌্যাঞ্চাইজি কর্মীদের মাঠের বাইরে চলে যাওয়া বল নিয়ে আসার জন্য জৈব সুরক্ষা বলয়ের বাইরে যেতে হয়েছে বারবার।