রায়গঞ্জে নির্মীয়মাণ ডিভাইডারে লোহার ফলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়

0
391
- Advertisement -

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের দেবীনগর কালীবাড়ি থেকে কসবার দিকে তৈরি ডিভাইডারের মাঝে গ্রিলে লোহার ফলা লাগানোয় সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি পুরপ্রধানের নজরে আসতেই কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে নির্মীয়মাণ ডিভাইডার পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

দেবীনগরের বাসিন্দা শিক্ষক চন্দ্রনারায়ণ সাহা শুক্রবার রাতে নির্মীয়মাণ ডিভাইডারের গ্রিলের ফলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করতেই সমালোচনার ঝড় উঠে। তিনি লেখেন, একটা সড়ক সবসময় দুর্ঘটনাপ্রবণ। সেখানে উপরিভাগ সমতলযুক্ত রেলিং বসালেই হত, যেমনটা বাকি শহরে আছে। সেটা না করে, এরকম তীক্ষ্ণ গ্রিল মানুষের জীবনকে দ্রুত মৃত্যুমুখী করবে। তিনি এবিষয়ে পুরপিতা সহ দুই কাউন্সিলার অভিজিৎ সাহা ও প্রসেনজিৎ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ওপরের অংশটুকু খুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এরপরেই ডিভাইডারের গ্রিলের ফলা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। মণিদীপা সেন নামে একজন লেখেন, যে রাস্তায় দুই পা চলতে গিয়ে হোঁচট খেতে হয়, সেই রাস্তায় এত চওড়া ডিভাইডার! এর চেয়ে রাস্তা মসৃণ করলে বেশি ভালো হত। স্কুটি নিয়ে ওখানে খুব সমস্যা হয়। ত্রিদীপ্ত ঘোষ লেখেন, এটি একটি প্রাচীন পদ্ধতি। পথে ঘাটে দোষী ব্যক্তিদের ওই স্থানে শূলে চড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে আর কী! ফয়সলা অন দ্য স্পট। পশুপ্রেমী সংস্থার সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া লেখেন, পরিবর্তন চাই। এই পোস্টে পূর্ণ সহমত। মানস চন্দ লেখেন, দেখতে ভালো লাগলেও বিপদের সম্ভাবনা থাকছে। তাই ওপরের অংশ পুরসভার সরিয়ে দেওয়া উচিত। পুরসভার অন্য সমস্ত ডিভাইডারের সঙ্গে এই অংশের বর্তমান ডিভাইডার মানানসই নয়।

প্রাক্তন শিক্ষক নলিনাক্ষ পাল লেখেন, আগে যেমন শাস্তির বিধান ছিল শূলে চড়ানো, বোধহয় ঠিক সেই ভাবনা থেকেই এটা হয়েছে। ডিভাইডার নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার পক্ষে কাউন্সিলার প্রসেনজিৎ সরকার জানান, ওটার কাজ আরও বাকি আছে। ফলার উপর ডিজাইন হলে আটকা পড়ে যাবে। ভিতরে গাছ লাগানো হবে। যখন সমালোচনা হচ্ছে, মানুষ যখন চাইছে না তখন গ্রিলের ফলা খুলে দেব। গাছগুলি যাতে কেউ চুরি করতে না পারে সেজন্য ফলা দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু ফলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তাই চেয়ারম্যান বলেছেন তা খুলে দিতে।

পুরপিতা সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ফলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। সেটা আমাদের নজরে এসেছে, দেখছি। তবে সাইকেল বা মোটর সাইকেল নিয়ে পড়লে কেউ ফলার মধ্যে পড়বে না। কাজ ভালো হচ্ছে বলে অনেকের গাত্রদাহ হচ্ছে। একশ্রেণির মানুষ উন্নয়ন দেখলে জ্বলে। কাউন্সিলার ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি। কাজ হচ্ছে বলে কিছু ভুল হচ্ছে, কাজ না করলে ভুল হত না। তবে ভুল সংশোধন করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

- Advertisement -