যেন চড়ুইভাতি, মাঠে-গ্যালারিতে বই খুলে পরীক্ষায় পড়ুয়ারা

252

হরষিত সিংহ, মালদা : দূর থেকে দেখলে মনে হবে চড়ুইভাতি। গ্রুপে গ্রুপে, কোথাও এককভাবে একঝাঁক ছেলেমেয়ে গোল হয়ে বসে আছে। তাঁদের হাতে শালপাতার বদলে সাদা পাতা, টিফিন বলতে নোটপত্তর এবং সাহায্যকারী হিসেবে এসেছেন গৃহশিক্ষকও। মালদা শহরে কোথাও কলেজ মাঠে, কোথাও স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এমনভাবেই চলছে স্নাতকের প্রথম সিমেস্টারের পরীক্ষা। মালদা কলেজ থেকে শুরু করে উইমেন্স কলেজ, গৌড় কলেজের মাঠ পর্যন্ত একই চিত্র। স্নাতকের পরীক্ষা ঘিরে মালদার বিভিন্ন কলেজের এই ছবি শিক্ষাজগতের মানুষের মধ্যে যথারীতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সকলের মুখেই একটাই প্রশ্ন- এটা পরীক্ষা, না প্রহসন?
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে সম্প্রতি স্নাতকস্তরের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মমতো সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত পরীক্ষার সময়। তারপর অনলাইনের মাধ্যমে বা সরাসরি কলেজেগুলিতে খাতা জমা দেওয়ার নির্দেশিকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। সময়মতো অনলাইনে প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাড়িতে বসে নয়, কলেজ সংলগ্ন ফাঁকা মাঠে, গ্যালারিতে বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। রোজ ১১টা বাজলেও কলেজ সংলগ্ন স্থানগুলিতে কলেজ পড়ুয়াদের গ্রুপ করে করে বসে পরীক্ষা দিতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু অনলাইনে প্রশ্ন চলে আসার পরই বদলে যাচ্ছে চিত্র। কেউ বই খুলে, কেউ নোট দেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ । শুধু নোট বা বই নয়, অনেকক্ষেত্রে গৃহশিক্ষককে পাশে বসিয়ে একদল পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। পাশাপাশি মোবাইল কনফারেন্সে স্যারকে রেখেও কিছু কিছু গ্রুপ পরীক্ষা দিচ্ছে। দুপুর ১ টার পরেও চলছে পরীক্ষা। পরীক্ষার এক ঘণ্টার মধ্যে খাতা জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সোমবার গৌড় কলেজে বিকেল চারটে পর্যন্ত খাতা জমা নেওয়া হয়েছিল। মালদা কলেজ ও উইমেন্স কলেজেও সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও খাতা জমা নেওয়া হয়েছে। সোমবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলির স্নাতক প্রথম বর্ষের বাংলা সাধারণ পরীক্ষা ছিল। এদিনও পরীক্ষা দিতে গ্রামগঞ্জ থেকে কলেজ পড়ুয়ারা মাঠ ও স্টেডিয়ামে ভিড় জমান। অধিকাংশ পরীক্ষার্থী কলেজে এসে খাতা জমা দিচ্ছেন। তাই লম্বা লাইন পড়ছে। যার জেরে বিকেল ৩টে থেকে ৪টা বেজে যাচ্ছে খাতা জমা নিতে কলেজগুলির। মালদার বিভিন্ন কলেজজুড়ে স্নাতক পরীক্ষার্থীদের এমন পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষাজগতের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। যদিও পড়ুয়াদের বক্তব্য, গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা ভালো না থাকায় তাঁরা কলেজ ক্যাম্পাসে বা আশেপাশে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। শুধু তাই নয়, শহরের পরীক্ষার্থীরাও কলেজে এসে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
পঙ্কজ ঘোষ নামে এক পরীক্ষার্থী জানায়, আমাদের গ্রামে ইন্টারনেট সমস্যা থাকায় আমি বাড়িতে পরীক্ষা দিতে পারছি না। পরীক্ষা দেওয়ার পর উত্তরপত্র অনলাইনে আপলোড করতে সমস্যা হচ্ছে। কলেজের অধ্যাপকদের একাংশের দাবি, অনেক কলেজ পড়ুয়াই অললাইনে খাতা জমা দেওয়ার চেষ্টা করছে না। তারা বিভিন্ন অজুহাতে কলেজে এসে ভিড় করে খাতা জমা দিচ্ছে। অনেকে আবার অনলাইনে খাতা জমা দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। সরাসরি কলেজে এসে খাতা জমা দিলে তাদের মানসিক চাপ অনেকটায় কম হচ্ছে।