র‌্যাশনের খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারে

410

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : র‌্যাশন নিয়ে বড়োসড়ো অনিয়মের অভিযোগ উঠল মাটিগাড়াতে। গরিব মানুষের জন্য ভরতুকিতে দেওয়া চাল, আটা, কেরোসিন তেল বণ্টন না করে খোলাবাজারে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। পরে তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মাটিগাড়া ব্লকের তুম্বাজোত, পতিরামজোত এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে এমনই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সরকারিভাবে মাথাপিছু যা বরাদ্দ করা হয বাসিন্দারা প্রতি মাসে র‌্যাশনে তার অর্ধেকের বেশি পান না। অর্থাৎ এই বিশাল পরিমাণ র‌্যাশন সামগ্রী চুরি করে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার। ওই এলাকার র‌্যাশন য়ে ডিলার মারফত বিলি করা হয তিনি আবার র‌্যাশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক। এলাকায তাঁর দাপট এতটাই যে ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন বাসিন্দারা। পাছে র‌্যাশন দেওয়াই বন্ধ করে দেয়, সেই আশঙ্কায় অন্যায় হচ্ছে জেনেও মুখ খোলেন না তাঁরা। অভিযুক্ত র‌্যাশন ডিলার ধীরেন সিনহা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মাঝেমধ্যে কিছু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। তবে আমরা গ্রাহকদের বরাদ্দ মতোই বিলি করার চেষ্টা করি। শিলিগুড়ির মহকুমা খাদ্য ও সরবরাহ আধিকারিক পেমডিকি শেরপা বলেন, ধীরেনবাবু আমার মহকুমায় অন্যতম ভালো র‌্যাশন ডিলার। তাঁর এলাকায় এমন ঘটনা ঘটতেই পারে না। তবুও অভিযোগ ওঠায় আমরা ঘটনার তদন্ত করে দেখব।

বর্তমানে র‌্যাশনে পাঁচটি বিভাগে সাধারণ মানুষকে ভরতুকির চাল, আটা, কেরোসিন তেল দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্ত্যোদয় অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড অন্যতম। এই দুটি প্রকল্পেই সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষ র‌্যাশনে ভরতুকিতে দেওয়া খাদ্যপণ্য ও কেরোসিন পান। বৃহস্পতিবার মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা তুম্বাজোত, পতিরামজোত এলাকায় গিয়ে দেখা গেল বাসিন্দারা কেউই ন্যায্য র‌্যাশন পাচ্ছেন না। এই এলাকার বাসিন্দারা ৩৮ নম্বর র‌্যাশন দোকান থেকে র‌্যাশন নেন, যার ডিলার ধীরেন সিংহ। এই ডিলারের অধীনে সব মিলিয়ে প্রায ১১ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। সরকারি নিযমে এএওয়াই কার্ডধারী পরিবার মাসে ২ টাকা কেজি দরে ১৫ কেজি করে চাল এবং  তিন টাকা কেজি দরে ২০ কেজি করে আটা পাবে। কিন্তু গ্রাহকরা জানিয়েছেন, ১৫ দিনে একবার পরিবারপিছু চার-পাঁচ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। অর্থাৎ মাসে ১০ কেজির বেশি চাল তাঁরা পাচ্ছেন না। আটাও ১৫ দিনে কাউকে পাঁচ কেজি, কাউকে সাত কেজি করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বরাদ্দ আটার অর্ধেকও দেওয়া হচ্ছে না। ডিজিটাল কার্ড থাকলে মাথাপিছু ৬০০ মিলিলিটার করে কেরোসিন তেল বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ য়ে পরিবারে সাতজন সদস্য রয়েছেন সেই পরিবার মাসে চার লিটার ২০০ মিলিলিটার কেরোসিন তেল সরকারি দামে (৩৩ টাকা ৮৭ পযসা) পাওয়ার কথা। কিন্তু পরিবারগুলিকে মাসে দুবার মিলিয়ে হযতো খুব বেশি হলে দুই থেকে আড়াই লিটার কেরোসিন তেল দেওয়া হচ্ছে। ক্যাশমেমো দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা দেওয়া হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানিয়েছেন, পরিমাণে একটু বেশি চাইলে বা মাসে সরকার নির্ধারিত চাল-আটা যে দেওয়া হচ্ছে না তা বললেই উলটে ধমক দেওয়া হয়। পরিমাণ আরও কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয। এই ভয়ে কেউ আর মুখ খুলতে চান না।

- Advertisement -

বাসিন্দারা বলছেন, র‌্যাশনে সাধারণ মানুষকে খাদ্যপণ্য না দিয়ে সেই সমস্ত পণ্য খোলাবাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। খোলাবাজারে চাল এবং আটা  ২০-২২ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হয়।