নদী ভাঙন রোধের কাজ নিয়ে উদ্বেগে সেচ দপ্তর

344
ফাইল ছবি।

দেবদুলাল সাহা,হরিশ্চন্দ্রপুর: নদী ভাঙন রোধে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সেচ দপ্তরের কর্তাদের। এরফলে ভাঙ্গন রোধের কাজ বন্যা মরশুমের আগে শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের ভালুকা বাজার এলাকায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি উদ্বেগে রয়েছেন সেচ দপ্তরের কর্তারাও।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভালুকায় কান্ট্রিসাইডে প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন রোধে বরাত পাওয়া মূল ঠিকাদারের অধীনে কাজ করছেন স্থানীয়দের পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে চারজন শাসকদলের বলে অভিযোগ। কিন্তু সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট মজুরির থেকে কম মজুরি দেওয়ার অভিযোগ তাঁরা মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে।

- Advertisement -

আবার নদীতে ঘরদোর তলিয়ে যাওয়ার পর বাঁধের উপরে বসবাস করছেন বেশ কিছু বাসিন্দা। তাঁদের পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত হয়নি। ফলে ভাঙন রোধের কাজের বোল্ডার, মাটি সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যেতে হচ্ছে অনেকটাই ঘুরপথে।

এছাড়াও, এক দশক আগে ভাঙন রোধের কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছিল সেচ দপ্তর। সেচদপ্তর জমি অধিগ্রহণ করলেও জমি মালিকরা কোনও টাকা না পাওয়ার অভিযোগে এনে কাজে বাধা সৃষ্টি করছৈন।

এমনই ত্রিফলায় বিদ্ধ হয়ে ফুলহারের ভাঙন রোধের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে চললে বর্ষার আগে ভাঙন রোধের কাজ শেষ করা যাবে না তা মানছেন সেচ দপ্তরের কর্তারাও।

জেলা সেচ দপ্তরের মহানন্দা এমব্যাঙ্কমেন্টের নির্বাহী বাস্তুকার বদিরুদ্দিন শেখ বলেন, পুরোপুরি বর্ষা এসে গেলেও বন্যার আগে তো কাজ শেষ করতে হবে। এই ভাবে বিভিন্ন সমস্যা চলতে থাকলে ঠিক সময়ে কাজ শেষ করা যাবে না। তখন সব টাকাই জলে যাবে। ফলে সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে সবরকমভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, গত বছর ভালুকায় ফুলহার বাঁধের ১০০ মিটার অংশ বসে গিয়ে মাটির তল দিয়ে জল সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকছিল। সেই ভাঙন রোধের কাজের জন্য সেচ দপ্তর এক কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। কিন্তু বরাদ্দ মিললেও লকডাউনের জেরে কাজ শুরু করা যায় নি। সম্প্রতি কাজ শুরু হলেও একাধিক সমস্যার জেরে ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভাঙনরোধের কাজ দেখভালের জন্য শাসকদলের স্থানীয় চার নেতাকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা কর্মীদের মজুরি কম দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এ কারণে, শ্রমিকরা মাঝে দু’দিন কাজও বন্ধ করে দেন। পরে সেচ দপ্তরের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা মিটেছে।

সেচ কর্তারা জানান, শ্রমিকরা কত মজুরি পাবেন তা জানানোর পর সমস্যা মিটে গিয়েছে। কিন্তু বাঁধের জবরদখল থাকায় কাজে সমস্যা হচ্ছে। ট্রাক্টর ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আর যাদের জমি নেওয়া হয়েছে তারা সকলে নো অবজেকশন দিচ্ছেন না। সেজন্য কতটা জমি অধিগ্রহণ করা হল সে বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তথ্য পাঠানো যাচ্ছে না।

হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের বিডিও প্রীতম সাহা বলেন, ওদের বাঁধ থেকে সরে যেতে বলা হলেও তাঁরা ওঠেননি। তবে, দ্রুত সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভালুকা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ সাহা অবশ্য বলেন, শুধু তৃণমূল নয়। সব দলের লোকজনই বাঁধের কাজ দেখভাল করছেন। তবে কাজে সমস্যা হলে বা কাজ ঠিক না হলে মানুষ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ চাই, নইলে বাঁধ রক্ষা করা যাবে না।

জমি বাবাদ টাকা না পেয়ে জমিদাতা গোপাল চৌধুরী বলেন, “সেচ দপ্তর দশ বছর আগে জমি অধিগ্রহণ করলেও আজও জমির মূল্য পেলাম না। টাকা না পেয়ে নো-অবজেকশন দিয়ে দিতে বলছে। আমাদের মধ্যে অনেকে এনওসি দিয়েও দিয়েছেন। বাঁধের কাজ চলছে অথচ আমরা লিখিত কোনও আশ্বাস পেলাম না। আমরাও চাই বাঁধের কাজ হোক। তবে আমাদের জমির মূল্যবাবদ অর্থের বিষয়ে সেচদপ্তরের তেকে সবুজ সংকেত পাচ্ছি না। আমরা শুধু হয়রানির শিকার হচ্ছি।