চোপড়ায নদীবাঁধ, চর দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ

220

চোপড়া : জমি মাফিযাদের দাপটে চোপড়ায সেচ দপ্তরের সরকারি নদীবাঁধ ও ডক নদীর চর দখল করে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠছে। শাসকদলের একশ্রেণির নেতার মদতেই বোমা-বন্দুকের ডগায় সরকারি জমি দখল বেশ কয়েক বছর ধরেই শুরু হয়েছিল। বর্তমানে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা কাঠা প্রতি দরে জমি মাফিযারা সরকারি জমি বিক্রি করে কাটমানি খাচ্ছে। বিঘার পর বিঘা জমি দখল হযে গিয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই নীরব দর্শকের ভমিকা পালন করছে। সেচ দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিযার হায়দার আলি জমি দখল হওয়ার কথা স্বীকার করে চোপড়া থানায় এই মর্মে এফআইআর দায়ে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার লিটন বর্মনকে ফোনে ধরা হলে, আমায সাত দিন বাদে ফোন করুন বলে তিনি ফোন কেটে দেন। গোটা ঘটনায় পুলিশ ও সেচ দপ্তরের ভমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তারা একে অপরের ঘাড়ে ঘটনার দায় চাপিয়েছে। চোপড়ার বিধাযক তৃণমূলের হামিদুল রহমানও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইসলামপুর মহকুমা প্রশাসন সেচ দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে।

চোপড়া সদরে বেশ কয়েক বছর ধরেই জমি মাফিয়াদের দাপটে সাধারণ মানুষ কা্র্যত ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন। চোপড়ার রবীন্দ্রনগর এলাকায় আইনকে তোয়াক্কা না করে সরকারি জমির দখল চলছে। ওই জমির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের অফিস। স্বভাবতই তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিপূর্বে চোপড়ার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরকারি জমির দখল নিতে গেলে এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। কিন্তু বোমা-গুলির হুমকি জোটার পর তাঁরা পিছু হটে যান। নদীর চর দখল করে যেভাবে বিপজ্জনকভাবে দোতলা বাড়ির নির্মাণ চলছে, তাতে যেকোনো সময বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে বাঁধের দুই পাশ দখল করে বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। ফলে সেচ দপ্তরের বাঁধ বলে এলাকায় কিছু আছে বোঝা দুষ্কর। স্থানীযরা বলছেন, বাঁধ অনেক চওড়া ছিল। জবরদখলের জেরে বাঁধের অস্তিত্বও সংকটের মুখে। বড়ো বন্যা হলে চোপড়ার সাধারণ মানুষকে এর খেসারত দিতে হবে।

- Advertisement -

সেচ দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হাযদার আলি বলেন, ‘বাঁধের এবং সেচ দপ্তরের জমি অবৈধভাবে দখল করে বাড়িঘর উঠছে তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। দপ্তরের তরফে থানায এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তারপরেও জবরদখল উচ্ছেদ হয়নি মানে ধরেই নিতে হবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি।’ বিধায়ক হামিদুল বলেন, ‘সরকারি জমি দখল কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুলিশের কাছে সেচ দপ্তর যখন লিখিত অভিযোগ করেছে, তখন পুলিশের উচিত উপযুক্ত পদক্ষেপ করা। তাতে যারাই যুক্ত থাকুক তাদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওযা হোক।’ চোপড়া থানার আইসি বিনোদ গজমের বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান চালানোর দাযিত্ব পুলিশের নয়। এই দায়িত্ব সেচ দপ্তরের। তারা যেদিন অভিযান চালাবে সেদিন আইনশৃঙ্খলা স্বভাবিক রাখতে পুলিশের সাহায্য চাইলে সেখানে ফোর্স নিশ্চয় থাকবে। সেচ দপ্তর উচ্ছেদ অভিযান চালানোর জন্য আমাদের কাছে কোনো ফোর্স চায়নি।’ ইসলামপুরের ভারপ্রাপ্ত মহকুমাশাসক খুরশেদ আলম বলেন, ‘সমন্বযে অভাব রয়েছে। ফলে সমস্যা জটিল আকার নিয়েছে। সেচ দপ্তর এই মর্মে আমাদের কিছু জানায়নি। জানালে পুলিশ সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তথ্য ও ছবি- অরুণ ঝা