মুরতুজ আলম, সামসী : প্রায় ১৫ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে সেচের অগভীর নলকূপ। কিন্তু সেটি সারানোর কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই। এনিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার কয়েকশো কৃষক। ঘটনাটি চাঁচল-২ ব্লকের মালতীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চান্দুয়া এলাকার। মালদা জেলাপরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন চান্দুয়া মাঠের বিকল হয়ে থাকা অগভীর নলকূপটি শীঘ্রই চালু করার ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

চান্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা ফাইজুদ্দিন আহমেদ জানান, চান্দুয়া মাঠের জমি তিন ফসলি। খুব উর্বর এখানকার মাটি। কিন্তু সেচের অভাবে এখানে ঠিকমতো ফসল ফলত না। জলসেচের জন্য সাতের দশকে রাজ্যের তৎকালীন সেচমন্ত্রী প্রয়াত গণি খান চৌধুরির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়। তিনি চান্দুয়াবাসীর দাবি মেনে ১৯৭৩ সালে চান্দুয়া মাঠে একটি অগভীর নলকূপ বসানোর ব্যবস্থা করেন। চান্দুয়ার তৎকালীন জমিদার ফণিভূষণ সরকারের দান করা বিঘাখানেক জমিতে অগভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। একজন অপারেটর ও একজন সহকারী থাকার জন্য দুটি কোয়ার্টারও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন অগভীর নলকূপটি  বিকল হয়ে পড়ে থাকার পাশাপাশি কোয়ার্টার দুটিও পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় কৃষক সঞ্জয় সরকার বলেন, চান্দুয়া মাঠের অগভীর নলকূপটি ১৯৭৩ সালে চালু হয়ে একটানা ৩০-৩২ বছর চলে। কিন্তু ২০০৪ সাল থেকে সেটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। নলকূপটি সারানোর জন্য প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে এলাকার চাষিদের। এই অগভীর নলকূপের জল দিয়ে প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে সেচের ব্যবস্থা হত। চাষিরা সস্তায় জমিতে সেচ দিতে পারত। সেচের জন্য বোরো ধানের ক্ষেত্রে প্রতি একরে মাত্র ২৪০ টাকা এবং আমন ধানের জন্য একর প্রতি মাত্র ৬০ টাকা দিতে হত। যা একেবারেই সামান্য। এখন বোরো ধান চাষের জন্য বেসরকারি পাম্পসেটে বিঘা প্রতি প্রায় তিন হাজার টাকা লাগছে। আমন ধানের ক্ষেত্রে খরচ হচ্ছে বিঘা প্রতি প্রায় দুই হাজার টাকা।

চান্দুয়ার বাসিন্দা মহম্মদ বিন বখতিয়ার ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বিকল হয়ে থাকা অগভীর নলকূপটি ঠিক করার জন্য চাঁচল-২ ব্লক প্রশাসনকে বহুবার জানিয়েছি। জানানো হয়েছে জেলা কৃষি দপ্তরেও। কৃষকদের স্বার্থে নলকূপটি চালু করার জন্য আন্দোলনে নামা ছাড়া আর বিকল্প পথ খোলা নেই। চাঁচল-২ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক অমিতকুমার সাউ বলেন, টানা ১৫ বছর ধরে একটি সরকারি প্রকল্প বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি ভাবতেও অবাক লাগে। আমাকে এব্যাপারে কেউ কিছু জানাননি। আমি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে নলকূপটি ফের চালু করার ব্যবস্থা নেব।