পাঁচ বছর বন্ধ ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্প, জল না পেয়ে সংকটে চাষিরা

233

গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি : কর্মীর অভাবে কার্যত সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের টটপাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শামুকতলা রোড এলাকার ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্প। নতুন করে কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ওই সেচপ্রকল্পটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রকল্পটির ঘর, পাম্প মেশিন এবং মাটির নীচে জলের পাইপ দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হতে বসেছে। প্রকল্প বন্ধ থাকায় সেচের জল না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন ওই এলাকার বহু কৃষক। আগের মতো কৃষিকাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না তাঁদের। তাই সেচপ্রকল্পটি পুনরায় চালুর দাবি তুলছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে সাতের দশকে ওই এলাকায় ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্পটি শুরু হয়। সেসময় ওই এলাকার কৃষকরা দারুণভাবে উপকৃতও হন। কৃষিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সেচের জলের সুবিধা পেয়ে সারাবছর নানা ধরনের ফসলের চাষাবাদ করতে শুরু করেন কৃষকরা। ১৪টি স্পাউটের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ একর জমির সেচব্যবস্থা হয় এই প্রকল্পে। ১০০ জনেরও বেশি কৃষক সারাবছরই সেচের সুবিধা পেতেন। কিন্তু, ২০১৪ সালের পর থেকেই পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং কর্মীর অভাবে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটি। পরবর্তীতে আর কর্মী নিয়োগ হয়নি। তারপর থেকেই আর প্রকল্পটি চালুই হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, সেচপ্রকল্পের স্পাউটগুলি নষ্ট হতে বসেছে। স্পাউট থেকে পাকা সেচনালাগুলি ভেঙে গিয়েছে।

- Advertisement -

ওই এলাকার বাসিন্দা সুনীলকুমার সিং বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্পটি পুরোপুরি বন্ধ। সেচের জল না পেয়ে কৃষকদের আগের মতো আমন, বোরো আলু ছাড়াও রবিশস্য চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেচের অভাবে বহু কৃষক এখন একটি ফসলের চাষ করছেন। বহুবার প্রশাসনের কাছে সেচপ্রকল্পটি চালুর আবেদন জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নাড়ুগোপাল ভৌমিক বলেন, সেচপ্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির জলের ওপরই নির্ভর করে আমন ধান চাষ করি। অপর এক কৃষক রাখাল পাল বলেন, সেচপ্রকল্প বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে কৃষক ও এলাকার কৃষিকাজে। আলিপুরদুয়ার-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ দাস বলেন, আগামী বৈঠকে সেচপ্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রকল্পটি চালু করতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।