এবারই কি শেষ পুজো, প্রশ্ন পারলালপুরে

- Advertisement -

সেনাউল হক, বৈষ্ণবনগর : গঙ্গার ভয়ানক ভাঙনে একের পর এক মন্দির বিলীন হয়ে গিয়েছে। মালদার মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছে বেশ কয়েটি গ্রাম। কালীমন্দির, মনসামন্দির থেকে শুরু করে গঙ্গা গিলেছে দুর্গামন্দিরও। দিশেহারা বৈষ্ণবনগরের পারদেওনাপুর শোভাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পারলালপুর এলাকার মানুষজন। এরই মধ্যে বেজে উঠেছে পুজোর ঘণ্টা। আর কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে বছরের সেরা উৎসব দুর্গাপুজো।

কিন্তু গঙ্গার ভাঙনে জর্জরিত পারলালপুর এলাকায় এবার কি পুজো হবে? এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা বৈষ্ণবনগর জুড়ে। একদিকে করোনা, অন্যদিকে ভাঙনে সর্বস্বান্ত এলাকার বাসিন্দারা। ফলে পুজো নিয়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এই এলাকায়। যদিও শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যে করেই হোক, মায়ের আরাধনা করতেই হবে। ফলে পারলালপুর ফেরিঘাট দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে এবারও পুজোর আয়োজন শুরু হয়েছে জোরকদমে। মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। স্থানীয় শিল্পীই প্রতিমা গড়ছেন।

প্রতিমা গড়ার কাজও প্রায় শেষ। পারলালপুর ফেরিঘাট এলাকায় রাধাগোবিন্দ মন্দির সংলগ্ন দুর্গামণ্ডপে পুজো হয়ে থাকে। এই মন্দিরটিও এখন সংকটের মুখে। গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে। মন্দিরের কাছেই এখন বইছে গঙ্গা। যে কোনও মুহূর্তে গঙ্গায় মিলিয়ে যেতে পারে এই মন্দির। বছর চারেক আগে মন্দিরটিকে বাঁচাতে সামনের অংশে অবশ্য পাথর দিয়ে বাঁধাই করা হয়েছে। তারই মধ্যে দেবীর আরাধনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পারলালপুর ফেরিঘাট দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যরা। কে জানে, হয়তো এবারই তাঁদের শেষ মাত আরাধনা!

দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক লক্ষ্মণ সরকার বলেন, জানি না আগামী বছর এই মন্দিরে পুজো করতে পারব কি না। এলাকায় যেভাবে গঙ্গার ভাঙন চলছে, তাতে সংকটজনক জায়গায় দাঁড়িয়ে রাধাগোবিন্দ মন্দির এলাকা। একদিকে ভাঙনে সর্বস্বান্ত এলাকাবাসী, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে করোনার দাপট। করোনার প্রভাবে মানুষ একেবারে নিঃস্ব। কিন্তু এত বড় একটা উৎসব একেবারে ফাঁকা রাখা যায় কী করে? তাই সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই পুজো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পুজো হবে খুব সাধারণভাবে। মায়ের আরাধনা করতে হবে বলেই পুজোর আয়োজন। এলাকার বাসিন্দারা নিশ্চিত, গঙ্গা যেভাবে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এগিয়ে আসছে, তাতে অচিরেই তলিয়ে যাবে এই রাধাগোবিন্দ মন্দির এবং সংলগ্ন দুর্গা মণ্ডপটিও। সেই ভয়ানক আশঙ্কা নিয়ে এবার পুজোর আয়োজন করেছেন গঙ্গাপাড়ের মানুষ।

- Advertisement -