লম্বুর শততম টেস্ট নিয়ে মজে ক্রিকেটমহল

আহমেদাবাদ : ২০০৭ সালে ঢাকায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার।

মাঝে ১৪ বছর কেটে গিয়েছে। ক্রিকেটেও অনেক বদল এসেছে। কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার লম্বু ইশান্ত শর্মা আজও একইরকম রয়েছেন। সবসময় মজা করতে ভালোবাসেন। নিজের কেরিয়ার ও জীবন নিয়ে ভারতীয় সাজঘরে সতীর্থদের সঙ্গে প্রায়ই মজে যান আড্ডায়। তুলে ধরেন তাঁর মনের অন্দরে থাকা দার্শনিক মনোভাবকে। এমন মনোভাব নিয়ে বুধবার থেকে মোতেরায় কেরিয়ারের শততম টেস্ট খেলতে নামছেন কোহলির সংসারের ইশু। কিংবদন্তি কপিলদেবের পর দ্বিতীয় ভারতীয় পেসার হিসেবে নজির গড়তে চলেছেন তিনি।

- Advertisement -

কেরিয়ারের শুরু থেকেই চোটআঘাত তাঁর নিত্যসঙ্গী। চোটের কারণে অনেক সময় লম্বু ইশান্ত ভেবেছেন, খেলা ছাড়ার কথাও। সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে এসেছেন আবার। বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে দিনের পর দিন রিহ্যাব করেছেন নিজেকে ফিট করার লক্ষ্যে। প্রতিবারই সফল হয়েছেন। মোতেরার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামে বুধবার কেরিয়ারের সেঞ্চুরি টেস্ট খেলতে নামার আগে হঠাৎই ইশান্ত বন্দনা শুরু হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। দিল্লি দলে ৩২ বছরের ইশান্তের একসময়ে সতীর্থ বিজয় দাহিয়া আজ জানিয়েছেন, ইশান্তই ভারতের শেষ পেসার হতে চলেছেন, যিনি শততম টেস্ট খেলছেন। দাহিয়ার কথায়, ইশু ভারতের শেষ পেসার হতে চলেছে, যে শততম টেস্ট খেলবে। এমন কীর্তি গড়ার মতো আর কাউকে দেখছি না আমি। আধুনিক ক্রিকেটে বেশিরভাগ পেসার নিজেদের আইপিএলের জন্য বাঁচিয়ে রাখে। ফলে ১০০ টেস্ট খেলার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

নিভতে চলা প্রদীপের শেষ আলো। বছর কয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে ইশান্ত নিজেকে এভাবেই মেলে ধরেছিলেন। তখন তাঁর টেস্ট সংখ্যা ছিল ৯৬। ভারতীয় ক্রিকেটমহল সেই সময় মনে করেছিল, ইশান্তের শততম টেস্ট খেলা সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে ইশান্তের সেই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে ঠিকই। কিন্তু মাঝে অনেকটা সময় পার হয়ে গিয়েছে। ইশান্ত নিজে বিশ্বাস করেন, তাঁর মধ্যে এখনও ক্রিকেট বাকি রয়েছে। এমন ভাবনার নেপথ্যে তাঁর অদম্য মনের জোর। কিন্তু চোটআঘাতের ধারাবাহিকতা তাঁকে বারবার এমন অবস্থার সামনে ফেলেছে, যার সঠিক ব্যাখ্যা নেই। দিল্লি দলের অধিনায়ক প্রদীপ সাঙ্গওয়ানের কথায়, ও যেমন লম্বা, তেমনই ওর চুলও লম্বা। আমরা ওকে লম্বু শাহরুখ খান বলে ডাকি সাজঘরে। দীর্ঘসময় ওকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মনের জোর ও ইচ্ছাশক্তির কারণেই ১০০ টেস্টের নজিরের সামনে ইশু।