বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপই ইশান্তের কাছে বিশ্বকাপ

আহমেদাবাদ : কিংবদন্তি কপিলদেবের ১৩১ টেস্ট ম্যাচের রেকর্ড পার করা নিয়ে ভাবছেন না। তাঁর পাখির চোখ বুধবার থেকে শুরু হতে চলা দিনরাতের টেস্ট। কেরিয়ারের সেঞ্চুরি টেস্টের আগে ইশান্ত শর্মার লক্ষ্যটা অন্যরকম।

লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপের ফাইনাল খেলতে চান তিনি। কারণ, কোহলির সংসারের ইশু বিশ্বাস করেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপের ফাইনালই তাঁর কাছে বিশ্বকাপ। হোম অফ ক্রিকেটে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপ জিততে পারলে সেটাই ইশান্তের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান হবে।মাঠে বল হাতে তাঁর মধ্যে আগ্রাসন কাজ করে সবসময়। কম কথার মানুষ ইশান্ত শর্মা বাইরের দুনিয়ায় সম্পূর্ণ আলাদা। আড্ডা দিতে পছন্দ করেন। আবার ওঠাপড়ায় ভরা দীর্ঘ কেরিয়ার নিয়ে তাঁর কাছে কোনও প্রশ্ন করা হলে দার্শনিক হয়ে যান ভারতীয় ক্রিকেটের লম্বু।

- Advertisement -

বুধবার থেকে মোতেরার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে পিঙ্ক টেস্ট। তার আগে আজ সন্ধ্যায় শিশির সমস্যা বোঝার জন্য প্রায় তিন ঘণ্টা অনুশীলন করল ভারতীয় দল। ফিটনেস টেস্টে পাশ করে সিরিজের শেষ দুই টেস্টের দলে ঢুকে পড়লেন উমেশ যাদব। যদিও গোলাপি টেস্টে তাঁর প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম। ইশান্ত-বুমরাহ, দুই পেসারেই প্রথম একাদশ চড়ান্ত করতে চাইছেন কোহলিশাস্ত্রীরা।

১০০ টেস্ট খেলা যেকোনোনও ক্রিকেটারের কাছেই স্বপ্ন। ইশান্ত শর্মা সেই স্বপ্নপূরণের দরজায়। বুধবার নিশ্চিতভাবেই তাঁর কেরিয়ারের সেরা দিন হতে চলেছে। তার আগে আজ বিকেলে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়েিছিলেন লম্বু। কেরিয়ারের শততম টেস্ট নিয়ে তিনি বলেন, কপিল পাজির মতো ১৩১ টেস্ট খেলা নিয়ে ভাবছি না। ভাবনায় এখন শুধু বুধবার থেকে শুরু হতে চলা পিঙ্ক টেস্ট। যেখানে আমরা জিততে চাই।

মোতেরায় গোলাপি টেস্ট পরবর্তী পর্বে নিজের লক্ষ্য নিয়ে ভারতীয় পেসার বলেন, বর্তমানে আমি ক্রিকেটের একটা ফর্মাটেই খেলি। তাই চলতি সিরিজ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জিততে পারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ পাব। আর লর্ডসে জিততে পারলে আমার জন্য় বিশ্বকাপ জেতার মতোই অনুভতি হবে।

২০১৬ সালে শেষ ওয়ান ডে খেলেছেন। আর শেষ আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ ২০১৩ সালে। সাদা বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলে নিয়মিত না হলেও তিনি এখনও স্বপ্ন দেখেন প্রত্যাবর্তনের। আত্মবিশ্বাসী ইশান্তের কথায়, একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফর্মাটেই খেলতে চাই। খেলা ছাড়া এখনও কিছুই ভাবতে পারি না। যদিও কোনও কিছু আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই বেশি ভাবতে চাই না।

বছর কয়েক আগে চোটআঘাতের কারণে ক্রিকেট ছেড়ে দেবার কথা ভেবেছিলেন। ফিট হয়ে ইংল্যান্ডে সাসেক্সের হয়ে কাউন্টি খেলতে যান ইশান্ত। সেখানেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় প্রাক্তন অজি পেসার জেসন গিলেসপির।তাঁর পরামর্শ নয়া ইশান্তের পথ চলা শুরু। ভারতীয় পেসারের কথায়, কেরিয়ারে বিভিন্ন সময়ে অনেকের থেকেই পরামর্শ পেয়েছি। জাহিরভাই প্রচুর সাহায্য করেছে। গিলেসপির থেকেও পরামর্শ পেয়েছি।

তাঁর কথায়, ২০০৭ সালে যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছিলাম, তখন আমার কাছে সবই ছিল নতুন। সময়ে সঙ্গে নিজেরও অভিজ্ঞতা বেড়েছে। এখন আমি জানি, কীভাবে নিজেকে ফিট রেখে সামনে এগোতে হবে। শেষ টেস্টে যে ইনটেন্ট নিয়ে নেমেছিলাম, সেঞ্চুরি টেস্টেও সেভাবেই মাঠে নামতে চাই।