করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পুরসভার আধিকারিকের

314

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ইসলামপুর পুরসভার এক আধিকারিকের। এদিন ভোরে মৃত্যু হয় ওই তার। মৃত ওই আধিকারিকের নাম গৌতম বর্ধন, তাঁর বাড়ি কলকাতার ২৮০ এমআইডি রোড পল্লীশ্রী এলাকায়। চলতি মাসের ১৮ তারিখে লালার নমুনা পরীক্ষার পর করোনা পজিটিভ মেলে।

রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত ছটপাড়ুয়া এলাকার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। শুক্রবার ভোরে মৃত্যু হয় তার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই আধিকারিক এর মৃতদেহ সৎকারের জন্য রায়গঞ্জ থানার আইসি, রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান, রায়গঞ্জের বিডিও কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কোভিড হাসপাতালে সুপারিনটেনডেন্ট দিলীপ কুমার গুপ্তা বলেন, একজনের মৃত্যু হয়েছে। সমস্ত বিষয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’

- Advertisement -

এই নিয়ে মোট রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালের দুইজনের মৃত্যু হল। গতকাল রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মায়ারানি লাহার (৭০) মৃত্যু হয়। অন্যদিকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি তে ৩৬ জনের করোনা পজিটিভের রিপোর্ট মিলল। হাসপাতাল সূত্রে খবর এদিন ওই ল্যাবরটরির আরটিপিসিআর মেশিনে ৩৬ জনের লালা রসের নমুনায় করোনা পজিটিভ মিলেছে। তাদের মধ্যে ১০ জন রায়গঞ্জ থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছে, মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সিস্টার ইনচার্জ করোনা পজেটিভের রিপোর্ট পেয়ে তড়িঘড়ি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরের এক স্বাস্থকর্মী করোনা পজেটিভের রিপোর্ট পেয়ে এদিন বিকেল চারটে নাগাদ রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। উত্তর দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধানের দাবি, “আইসিএমআরের গাইডলাইন মেনে চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিন কোভিড হাসপাতালে কর্মরত ১৬ জন নার্স, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, দুইজন ফার্মাসিস্ট সহ কুড়ি জন স্বাস্থ্য কর্মী রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ফিভার ক্লিনিকে লালা রসের নমুনা দিয়েছেন। এছাড়া রায়গঞ্জ থানার ১২ জন সিভিক ভলেন্টিয়ার লালা রসের নমুনা দিয়েছে ফিভার ক্লিনিকে। এদিকে করোনা পজিটিভ উপসর্গ হীনদের রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় অবস্থিত ক্রেতা সুরক্ষার নয়া ভবনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভর্তি হওয়া সিভিক ভলেন্টিয়ার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের অভিযোগ চিকিৎসক-নার্স ফার্মাসিস্ট কারোই দেখা মিলছে না। নেই অক্সিজেন সিলিন্ডার। ফলে অনেকের শ্বাসকষ্ট হলেও সেখানেই রাখা হচ্ছে। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সকাল-রাতে চিকিৎসকরা গিয়ে দেখে আসছেন। এই মুহূর্তে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১২ জন ভর্তি রয়েছে।