ভবঘুরেদের দায়িত্ব নিল ইসলামপুর পুরসভা

243

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: ভবঘুরেদের আর যত্রতত্র ঘুরে বেড়াতে হবে না, এবার তাদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরি করেছে ইসলামপুর পুরসভা। শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও জনবহুল এলাকায় বেশকিছু ভবঘুরে দেখা যায়। কিন্তু তাদের আশ্রয়স্থলের জন্য এতদিন কেউ উদ্যোগ নেয়নি। ইসলামপুর পুরসভা শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গানগর এলাকায় ভবঘুরেদের জন্য এই বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। শহরের বিভিন্ন মহল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, এই প্রকল্পে সরকারের মানবিক রূপ ফুটে উঠেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় নগর জীবিকা মিশন প্রকল্পে ইসলামপুর পুরসভার ভবঘুরেদের জন্য এই আশ্রয়স্থল তৈরি করেছে। এর জন্য প্রায় আড়াই বছর আগে এলাকায় সার্ভে হয়েছিল। সেসময় ৩৫জন ভবঘুরে পাওয়া গিয়েছিল। পরে আবার সার্ভে করে ১০জন ভবঘুরেকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

- Advertisement -

পুরসভার প্রশাসক কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গানগরে পুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ওই বাড়ি নির্মাণ করা হয়। সেখানে জাতীয় নগর জীবিকা মিশন থেকে ভবঘুরেদের থাকার জন্য ব্যবস্থা থাকবে। ২৯ডিসেম্বর ভবঘুরেদের ওই ভবন পথ চলা শুরু করবে।‘

পুরসভা তরফে জানানো হয়েছে, ভবন নির্মাণের জন্য এক কোটি ২৬লক্ষ টাকার অনুমোদন করে ওই বিভাগ। এছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের জন্য প্রতিবছর ৬লক্ষ টাকা করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই খাতে আরও ৩০লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে, সব মিলিয়ে মোট এক কোটি ৫৬লক্ষ ১২হাজার টাকার ফান্ড এসেছে। ভবঘুরেদের ৯কাঠা জমিতে ৫০শয্যা বিশিষ্ট ৪তলা ভবন নির্মান হয়েছে। ভবঘুরেদের শুধু থাকাই নয়, খাবার ও পোশাক সহ যাবতীয় দায়িত্ব নেবে পুরসভা। তাদের দেখাশোনার জন্য একজন কর্মীও থাকবেন। ২০১৯ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই ওই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে নির্মাণ কাজ শেষ করতে বাড়তি সময় লেগে যায়।

শহরের বাসিন্দারা বলেন, ‘ইসলামপুর শহরেরর বাস টার্মিনাস এলাকা, হাসপাতালের সামনে, জাতীয় সড়কের ধারে ও রেলস্টেশনে প্রায়শই বেশকিছু পুরুষ ও মহিলা ভবঘুরেকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তাদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট কোনও জায়গা না থাকায় রাতে যেখানে সেখানে তাঁরা ঘুমায়। ঝড়-বৃষ্টি, শীত ও গরমে তাদের কষ্ট হয়। স্থানীয় দোকানদারদের উদ্যোগে কোনওক্রমে একমুঠো খাবার তাদের জোটে। কোনও দিন আবার জোটে না। এতদিন তাদের কথা কেউ ভাবেনি। পুরসভার উদ্যোগ সাধুবাদ যোগ্য।‘