সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের বেহাল চরতোর্ষা ডাইভারশন নিয়ে পরিবহণকর্মী ও মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। চালকদের দাবি, ডাইভারশনের গর্তে ধাক্কা লেগে গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে। বাস বিকল হচ্ছে, ভুটভুটি উলটে যাচ্ছে। প্রায়ই যানজট হচ্ছে। যার জেরে ক্ষুব্ধ স্কুল পড়ুয়া ও নিত্যযাত্রীরাও। এই রাস্তায় তৈরি হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের মহাসড়ক। চরতোর্ষার মূল সেতুটি প্রায় আড়াই বছর ধরে ভেঙে রয়েছে। বিকল্প সেতুর কাজ চলছে ঢিমেতালে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ অবশ্য ডাইভারশন সারাইয়ের আশ্বাস দিয়েছে। ফালাকাটা উপনির্বাচনের আগে এই বেহাল ডাইভারশনে মানুষের ভোগান্তিকে ইশ্যু করে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিজেপির দাবি, চার লেনের মহাসড়কের কাজ চলছে। বৃহৎ স্বার্থে একটু অসুবিধে মেনে নিতে হবে।

২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায় ফালাকাটার চরতোর্ষা সেতু। ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি এই ৪১ কিমি রাস্তায় তৈরি হচ্ছে চার লেনের ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর। গত বছর লোকসভা ভোটের আগে এই মহাসড়কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রকল্পের জেরে পরবর্তীতে আর চরতোর্ষায় বিকল্প সেতু তৈরি হয়নি। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে মহাসড়কের জন্য স্থায়ী সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, সেই কাজও চলছে শম্বুকগতিতে। এদিকে, হিউমপাইপ বসানো বেহাল ডাইভারশনে মানুষের ভোগান্তির অন্ত নেই। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বর্ষায় চরতোর্ষার এই ডাইভারশন কার্যত জলের তলায় চলে যায়। জলের ধাক্কায় বারবার ডাইভারশনটি ভেঙে যাওয়ায় সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারের। অভিযোগ, বর্ষার পরে তাপ্পি মেরে সারাই হওয়ায় বর্তমানে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে ডাইভারশন। এজন্য বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবহণকর্মীরা।

- Advertisement -

সম্প্রতি পাতি ভেঙে যাওয়ায় সারাদিন এই ডাইভারশনে দাঁড়িয়ে ছিল ফালাকাটার একটি বাস। চালক রতন সরকার বলেন, ডাইভারশনের গর্তে ধাক্কা লাগায় পাতি ভেঙে যায়। পরে গ্যারাজকর্মীদের নিয়ে এসে কাজ করানো হয়। সাফারিচালক বাবলু বর্মন জানান, এখানকার গর্তে ধাক্কা লাগায় তাঁর গাড়িরও যান্ত্রাংশ ভেঙেছিল। টোটো ও অটোচালকদের যান্ত্রণা বেশি। অটোচালক মলিন বর্মন বলেন, অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে গাড়িতে ধাক্কা লাগাতে হয়। একই বক্তব্য টোটোচালক সঞ্জীব তরফদারের। এজন্য মাঝেমধ্যে যানজটও হচ্ছে। আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত ফালাকাটার বেসরকারি মোটরকর্মী ইউনিয়ন সভাপতি প্রসেনজিৎ বর্মন বলেন, রোজ কোনও না কোনও গাড়ির যন্ত্রাংশ বিকল হচ্ছে। কর্মী ও মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের সব মহলে ডাইভারশন সারাইয়ে দাবি জানানো হয়েছে। বাসমালিক মানিক সরকার বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানোয় ক্ষতি বেশি হচ্ছে। এদিকে ভাঙাচোরা ডাইভারশনে ধুলো বইছে। ফালাকাটা গার্লস হাইস্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কালীপুরের প্রিয়া বর্মন বলে, ধুলো ও যানজটে সমস্যা হচ্ছে। তাই দুতিন ঘণ্টা আগেই বাড়ি থেকে বের হচ্ছি। এনএইচএআইয়ে নর্থবেঙ্গল জোনের টেকনিকাল ম্যানেজার রাজু কুমার বলেন, ওই ডাইভারশন সারাইয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।

এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ফালাকাটার ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই চরতোর্ষায় সেতু তৈরিতে বিলম্ব হচ্ছে। এ নিয়ে বিজেপির নেতাদের কোনও হেলদোল নেই। রাজ্য সরকারের হাতে থাকলে অনেক আগেই ওই সেতু হয়ে যেত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি অবশ্যই আমরা উপনির্বাচনে ইশ্যু করব। বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে সাময়িক কিছু সমস্যা সাধারণ মানুষকে মেনে নিতেই হবে। দ্রুত সেতু তৈরির জন্য আমরাও সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এটা কোনও ইশ্যুই নয়। তাঁর পালটা দাবি, এতদিনে এখানে বিকল্প সেতু তৈরি করা উচিত ছিল রাজ্য সরকারের।