দাপুটে নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে শোরগোল

58

চোপড়া: চোপড়া ব্লকের তৃণমূল নেতা একরামুল হককে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএমের প্রার্থী ছিলেন একরামুল হক। সেবার হামিদুল রহমানের কাছে পরাজিত হতেই রাতারাতি দলবদল করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এরপরেই ধীরে ধীরে তিনি দলের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। তাঁকে মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের দলের অঞ্চল কোর কমিটির চেয়ারম্যান ও ব্লক কোর কমিটির সদস্য করা হয়। একরামুল সাহেবের স্ত্রী অসমতারা বেগম বর্তমানে চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন।

মঙ্গলবার একরামুল হককে সরাসরি দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে বিধায়কের প্যাডে চিঠি ধরানো হয়। মুহূর্তে সেই চিঠির সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা চলে। নিজের দলেরই অন্দর মহলে যেমন কানাঘুষো শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কোনও রকম শোকজের চিঠি না ধরিয়ে কীভাবে সরাসরি বহিষ্কার করা হল। এদিকে, দলের পদ থেকে বহিষ্কারের চিঠিতে কারণ উল্লেখ করা না হলেও দলীয় বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, তৃণমূল পরিচালিত মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্মের বিভিন্ন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণেই ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন দল। জানা গিয়েছে, মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের কাজে একাধিক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে। সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ঘরে পঞ্চায়েত সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতিতে দল বিড়ম্বনায় পড়ে। এধরনের একের পর এক ঘটনাকে ঘিরে বারবার ব্লক কমিটিতে বৈঠক পর্যন্ত হয়। সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কারের ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে একরামুল হক অবশ্য বলেন, ‘এদিন সকালে হঠাৎ একটি চিঠি ধরানো হয়েছে। কী কারণে দলের এধরনের সিদ্ধান্ত তিনি এখনও বুঝে উঠতে পারেননি।

- Advertisement -

দলের ব্লক কোর কমিটির চেয়ারম্যান তাহের আহমেদ বলেন, ‘একরামুল হক মাঝিয়ালি অঞ্চল কোর কমিটির চেয়ারম্যান পাশাপাশি ব্লক কোর কমিটির সদস্য পদে ছিলেন। দলের মধ্যে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর অভিযোগে এধরনের সিদ্ধান্ত বলে শুনেছি।’ এলাকার বিধায়ক হামিদুল রহমান অবশ্য বলেন, ‘স্থানীয় মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।’ ব্লক সভাপতি প্রীতিরঞ্জন ঘোষ অবশ্য বলেন, ‘দল নিশ্চয়ই কিছু ভুল ভ্রান্তি লক্ষ করেছে। তারপরেই পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভুল স্বীকার করলে পরবর্তীতে নিশ্চয়ই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।’