মাপা সময়ে ঘরে ফেরা দায়, ভোটের খোঁজ রাখে না ওঁরা

51

হেমতাবাদ: আজও কাঁটাতারে বন্দী জীবন। রুজির টানে নিজেরই চাষের জমিতে যেতে হয় ঘড়ির কাঁটা মেপে। উত্তর দিনাজপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হেমতাবাদ ব্লকের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দাদের রোজনামচা। সময় হেরফের হলেই বন্ধ হয় সীমান্ত গেট। হয়না ঘরে ফেরা। বাধ্য হয়ে কাঁটা তারের ওপারেই খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হয় তাদের। কখন ভোট আসে আর কখন চলে যায় তার খোঁজ রাখে না ওঁরা।

কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে শয়ে শয়ে বিঘা কৃষিজমি। সেখানে যাতায়াতের সময় বেঁধে দেওয়া রয়েছে। যা নিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। সময় বাড়ানোর দাবিতে সরব প্রত্যেকেই। কারণ কাঁটাতারের ওপারের জমিতে চাষাবাদ নিয়ে ঘোর বিপাকে এপারের অন্তত সাড়ে তিন হাজার কৃষক। ভরা বর্ষায় মাঝেমধ্যেই ভেসে যায় ওপারের আবাদি জমি। জল সরানোর নেই কোনও পথ।‌

- Advertisement -

১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা পর এপারেই থেকে যান ওরা। কিন্তু এতদিনেও রোজগারের স্বাধীনতা মেলেনি। বৈধ নাগরিকত্ব সত্বেও ইচ্ছে মতোন নিজের জমিতে ফসল আবাদ করার অধিকার অমিল। দীর্ঘদিনের এই ক্ষোভ নিয়ে এবারেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বামুই, বাটোলা, করইডাঙ্গি, কাচতোরই, ভোগ্ৰাম, বাসুদেবপুর, ধনতোর, কলুয়া, ভরতপুর, মাকরহাট, মাকালডাঙ্গি, বৈরাগী মোড় গ্রামের প্রায় ছয় হাজার ভোটার। ভোট প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ঘনঘন আনাগোনা শুরু হয়েছে সবে। তাদের কাছে সীমান্তের মানুষজনের একটাই দাবি ওপারের জমির দলিল আছে কিন্তু ইচ্ছে মতোন চাষ করার জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক। পাঁচ বছর ধরে পাট, ভুট্টা চাষের অনুমতি বন্ধ। আমন ও বোরো ধান চাষ হয় এখন। কাঁটাতার পেরিয়ে সময় মেপে সীমান্তের গেট দিয়ে চাষের কাজ সেরে আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসতে হয়। ‌

বামুই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব ফাহিম আলী বলেন, ‘ওপারে নয় বিঘা জমি আছে আমার। কিন্তু গত বছর বন্যার জলে অনেক ধান পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অথচ এপার থেকে পাইপ নিয়ে জল সরাতে পারলাম না। বিএসএফকে অনেক অনুরোধ করে কোনও লাভ হয়নি।’

স্বদেশে থেকেও যেন ওরা পরবাসী। বছর চল্লিশের আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ওপারের 8 বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। এই আলু চাষ করে এপারে আনতে নানান রকম ঝক্কি সামলাতে হয়েছে। একদিন সকাল আটটায় গেট খুলতেই ওপারে জমিতে গিয়ে গেট বন্ধ হওয়ায় আর ভাত খেতে আসতে পারিনি। একেবারে সন্ধায় আসতে হয়েছে। দেশভাগের পর কাঁটাতারের বেড়া হয়েছে কিন্তু নাগরিক হয়েও জীবিকা অনিশ্চিত।’

ভোটের জন্য বিভিন্ন দলের লোকজন আসা-যাওয়া করছে গ্রামে। সমস্যার কথা উঠেছে। কিন্তু সমাধান কি মিলবে? জানেন না কেউ’ই।