মানসিক দৃঢ়তাই মনপ্রীতদের সাফল্যের রহস্য

টোকিও : ৪১ বছরের অপেক্ষার অবসান।

টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক লাভে ভারতীয় হকি আবার সাফল্যের আলোয় উদ্ভাসিত। মনপ্রীত সিংদের কৃতিত্ব মন ছুঁয়ে গিয়েছে পূর্বসূরি ধনরাজ পিল্লাইয়েও। ভারতীয় দলের মানসিক শক্তির সামনে দুমড়ে গিয়েছে জার্মানি, মনে করেন তিনি। ধনরাজের কথায়, টোকিও অলিম্পিকের শুরু থেকে ভারতীয় দলকে অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেখিয়েছে। জয়ে মানসিকতায় ভরপুর ছিল মনপ্রীতরা। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-৭ হার হোক কিংবা বেলজিয়ামের কাছে সেমিফাইনালে পরাজয়, হতাশা গ্রাস করেনি ভারতীয় দলকে। জার্মানির বিরুদ্ধে গোটা টিম শূন্য থেকে শুরু করেছে। এই লড়াকু মানসিকতাই ভারতীয় টিমের শক্তি। অতীতে বারবার এই জায়গায় পিছিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে ভারতীয় দলকে। পারফরমেন্সও ধাক্কা খেয়েছে। কিন্তু এবার সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

- Advertisement -

১৯৮০-র মস্কো গেমসে শেষবার সোনা জিতেছিল ভারতীয় পুরুষ হকি দল। এবার সোনা না জিতলেও পিআর শ্রীজেশদের ব্রোঞ্জপ্রাপ্তির কৃতিত্বকে খাটো করে দেখতে নারাজ ধনরাজ। জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়কের কথায়, বিশ্বের সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে পদক লাভ করেছে ভারত। জার্মানি ধারেভারে অনেক এগিয়েছিল। ওদের বল কন্ট্রোল ক্ষমতা দারুণ। দলে সেটপিস স্পেশালিষ্ট কম নেই। এমন দলকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ প্রাপ্তিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। গোলের নীচে দারুণ খেলেছে শ্রীজেশ। এমনকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওকে লড়তে হয়েছে।

সঠিক পরিকল্পনা আর পরিকাঠামোর হাত ধরে ইউরোপের হকি দলগুলি এগিয়ে গিয়েছে কয়ে কদম। ভারতীয় হকি দলও সেই পথ ধরেই সাফল্যের স্বাদ পেল বলে জানান পিল্লাই। তিনি বলেন, হকির উপযোগিতা কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ উপলব্ধি করতে পেরেছে। ক্রীড়ামন্ত্রক, রাজ্য সরকার, ফেডারেশন মিলে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল তার সুফল মিলতে শুরু করেছে। সাই কমপ্লেক্সগুলি পরিকাঠামোগত দিক থেকে আগের চেয়ে উন্নত। ভারতীয় হকি টিমের হাত ধরে ভবিষ্যতে আরও সাফল্য এলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।